কি ভাবে একজন ভালো মনের মানুষ হওয়া যায়।How to be a good minded person.

 আজকের এই পৃথিবীতে সত্যিই ভালো মনের মানুষের অভাব খুবই বেশি। 

আমাদের বাবা মা বা অভিভাবক রাও চায় না যে আমরা ভালো মনের মানুষ হই। তারা শুধু এটাই চান। যেন আমাদের সন্তানেরা অনেক টাকা রোজগার করতে পারে। আর অনেক ভালো ভাবে জীবনযাপন করতে পারে। কখনোই বলে না যে তোমরা ভালো মনের মানুষ হও। সমাজের জন্য ভালো কাজ করো। আজ এই পৃথিবীর সমস্ত মানুষ টাকা রোজগার করার জন্য এলোপাতাড়ি দৌড়ে বেড়াচ্ছে। সমগ্র বিশ্বের আজ একটাই লক্ষ্য কি ভাবে প্রচুর পরিমাণে টাকা রোজগার করা। 


এতে আমাদের মা বাবা বা অভিভাবকদের দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। সমস্ত মানবজাতি আজ টাকার জন্য ছুটছে। যার ফলে মানুষের ভালো মন্দ জ্ঞান দিনের পর দিন লোপ পাচ্ছে। ভালো মনের মানুষের সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে।

তো আজকের মুল বিষয়, কি ভাবে একজন ভালো মনের মানুষ হওয়া যায়। 

১) টাকা,টাকা,টাকা,টাকাকে কম গুরুত্ব দিন।


টাকা কেই জীবনের সবকিছু ভাবতে যাবেন না। সত্যিই যদি ভালো মানুষ হতে চান। তাহলে টাকার সম্পর্ক থেকে একটু  দূরে থাকুন। আমাদের জীবনে টাকার ভুমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবুও বলছি টাকার সম্পর্ক থেকে দূরে থাকুন। কারণ টাকাই হল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভিলেন। আজ পৃথিবীতে যত রকম অপরাধ মূলক ঘটনা ঘটে তার মূল কারণ হলো টাকা বা সম্প্রতি। টাকার জন্য ভাইয়ে ভাইয়ে মারপিট, বন্ধুত্বের সম্পর্ক নষ্ট। টাকার জন্য মানুষ,আজ মানুষকেই খুন করতে দুই বার ভাবে না। আবার টাকা যার নেই  তার এই পৃথিবীতে কোনো সন্মান নেই।সে অবহেলার পাত্র হয়।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি অপরাধ মূলক কাজকর্ম হয় টাকার বিনিময়ে। তাই বলছি টাকার নেশা করবেন না। যেটুকু প্রয়োজন সেটাতেই সন্তুষ্ট থাকুন।

২) নারীদের থেকে দূরে থাকুন।

টাকার যেমন একটা বিরাট ভূমিকা আছে। সেরকম নারীদের ভূমিকা এই পৃথিবীতে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক যুগ ধরে নারীদের বহু ঘটনা শুনে আসছি। নারীর জন্য বহু মুনীর ধ্যান ভঙ্গ হয়েছে। নারীর জন্য রাজা মহারাজার সিংহাসন পর্যন্ত হারিয়েছেন। এবং অনেক মানুষ নারীর জন্য অনেক ভালো ভালো কাজও করেছেন। নারীদের ভালো এবং খারাপ দুটি দিকেই আছে। আজকের দিনে মানুষ অবৈধ সম্পর্কে বেশি জড়িয়ে যাচ্ছে। ত্রিকোণ প্রেমের চক্করে পড়ে সংসারে অশান্তি, মনোমালিন্য, ঝগড়া, শেষে খুনোখুনি পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। নিউজ পেপার খুললেই এই সব ঘটনা প্রায় দিনেই দেখা যায়।


যে কোন অপরাধের আর একটি মুল কারন হল নারী।  তাই এদের থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে।

৩) নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে।

আপনি যদি ভালো মানুষ হতে চান।তাহলে, নেশা থেকে দূরে থাকতে হবে। নেশা করলে হয়তো সাময়িক আনন্দ পায়, মন ভালো থাকে, টেনশন দূর হয়, কিন্তু সেটা কিছুক্ষনের জন্য। সব সময়ের জন্য নয়। নেশা করলে বা মাতাল হয়ে গেলে, মানুষের জ্ঞান থাকে না। ফলে অনেক খারাপ কাজকর্ম করে ফেলে। পরে নেশা কাটলে টের পায় যে , আমি কি ভুল কাজটাই না করেছি। তখন আর মানুষের কাছে মুখ দেখানো যায় না। আজ এই পৃথিবীটা চারদিকে মাতাল এ ভরে গেছে। যাদের বাড়িতে নেশাগ্ৰস্ত ব্যক্তি আছে, তারাই ভালো বুঝতে পারবেন। নেশা কতটা খারাপ প্রভাব ফেলে মানুষের জীবনে। যদি কেউ নেশা করে থাকেন, তাহলে এটার থেকে বেরোনোর চেষ্টা করুন। না হলে পরবর্তি সময়ে চেষ্টা করলেও নেশার থেকে সহজে বেরোতে পারবেন না।

৪) পশুপাখি, জীবজন্তু, অসহায় অবলা প্রানীদের সেবা করুন। 

আপনি যদি এই কাজটি ভালো করে করতে পারেন। তাহলে জানবেন ভগবান আপনার জন্য বিশেষ কোন গিফট তুলে রেখেছেন। মানে ,আপনি অনেক পূণ্যের অধিকারী হতে পারবেন। ভগবানের আশির্বাদ সবসময় আপনার সাথে থাকবে।অবলা প্রানীদের সেবা করা মানে ভগবানের পূজো করা।

৫) গরীব অসহায়দের পাশে এসে দাঁড়ান।

বৃদ্ধ অসহায় ব্যক্তিদের সবরকম ভাবে সাহায্য করুন। গরীবদের সাহায্য করুন। আজকের দিনে যাদের টাকা আছে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানুষের অভাব নেই। কিন্তু যাদের টাকা নেই, তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানুষের অভাব অনেক বেশি। তারা সঠিক বিচার পায় না। এই সব মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন। সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য।


৬) নারীজাতিকে সন্মান দেওয়া ও বাচ্চাদের ভালোবাসা।

নারীরা হল মায়ের জাত। পৃথিবী সৃষ্টিতে স্ত্রী জাতির ভুমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজ আমরা যাদের জন্য এই পৃথিবীতে এসেছি , তাদের কে সন্মান দেওয়া আমাদের একান্তই প্রয়োজন। নারীর চোখের জলে নাহলে একদিন আমাদের ভেসে যেতে হবে। একটা শিশুকে জন্ম দেওয়ার থেকে শিশুটিকে বড়ো করা। এটা একমাত্র মায়ে  রাই পারে সবচেয়ে ভালো ভাবে। একটি নারীর অনেক গুলি রূপ ধারণ করে। কখনো মাতৃ রুপে ,কখনো কন্যারূপে, কখনো স্ত্রী রূপে। পুরো সংসারটাকে বিভিন্ন রূপে এরা সাজিয়ে রাখে। সত্যিই এদের তুলনা হয় না। তবুও বিভিন্ন কারণে আমরা মেয়েদের অসন্মান করে থাকি। এটা কিন্তু ঠিক নয়। কারণ, সেও কারো না কারো বোন,বা দিদি, বা মেয়ে,বা  কারো মা।  তাই মেয়েদের সন্মান দিতে হবে।


বাচ্চাদের ভালোবাসা দিন। বাচ্চাদের মন এখন প্রবিত্র থাকে, এদের কে আপনি এখন যা শেখাবেন এরা তাই শিখবে। ভুল করেও বাচ্চাদের সামনে খারাপ কিছু করবেন না। আপনি যদি ধূমপান করেন তো, বাচ্চাদের সামনে করবেন না। 

৭) সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করুন।

কোন কিছুতেই খারাপ চিন্তা ভাবনা মাথার মধ্যে আনবেন না। অন্যরা যা ভাবে তার থেকে আপনাকে আলাদা নতুন কিছু ভাবতে হবে। কারণ আপনি তাদের থেকে আলাদা। আপনি একজন সৎ ব্যক্তি। ফালতু বা  আজেবাজে চিন্তা গুলোকে মাথা থেকে এখুনি ডিলিট করুন।

৮) সর্বদা তর্কবিতর্ক থেকে দূরে থাকুন।

আপনার যে ভালো দিক গুলো আছে, এবং আপনি যে বুদ্ধিমান সেটা কিন্তু আগবাড়িয়ে প্রমান করতে যাবেন না। মূর্খদের সাথে তর্কে জিতে কোন লাভ নেই। বরং এদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত আপনি অপমানিত হতে পারেন। সেজন্য অযথা তর্ক বিতর্ক থেকে দূরে থাকুন। 

৯) বিশ্বাস অর্জন করুন।

সত্যি কথা বলতে কি, বিশ্বাসী হয়ে উঠা খুবই জটিল কাজ। কারণ এটাকে চোখে দেখা যায় না। আস্তে আস্তে মানুষের মনে আগে জায়গা করতে হবে। আর এটা যখন পেরে যাবেন। মানুষ তখন আপনাকে বিশ্বাস করতে শুরু করবে। আর পৃথিবীতে সবচেয়ে বড়ো অস্ত্র হল বিশ্বাসঘাতকতা। আমরা মনে হয় পৃথিবীতে এর থেকে বড় অস্ত্র আর কিছু নেই।

১০) সঠিক ভাবে কথা বলা। 

আপনি ভদ্র না অভদ্র । তার কথা বলার ধরন দেখে অনুমান করা যায়। আপনি কেমন ব্যক্তিত্বের অধিকারী সেটাও আপনার কথা বলার ফলে বোঝা যাবে। তাই কথা বলার সময় নিজেকে এবং নিজের মুখকে সংযত রাখুন। কারণ মুখ থেকে বেরিয়ে যাওয়া শব্দকে আর ফেরানো যায় না।

১১)অহঙ্কার দেখানো উচিত নয়।

অহংকার পতনের মূল কারণ।তাই অহংকার নামক শব্দটিকে লাইফে ব্যবহার করা চলবে না।

১২) রাগ কন্ট্রোল করতে হবে।

মানুষ যখন রেগে যায় । তখন তার মাথা কোন কাজ করে না। রাগের মাথায় অনেক কিছু করে ফেলে। পরে আফসোস করতে হয়। তাই ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করুন। 

১৩) মানুষ শব্দের অর্থ জানতে হবে।

মান আর হুস যার মধ্যে রয়েছে সেই মানুষ। এ পি জে আবদুল কালাম বলেছেন। মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা বের হলে মুরগি হয়। ছাগলের পেট থেকে বাচ্ছা হলে ছাগল হয়। কিন্তু মানুষের পেট থেকে বাচ্ছা হলে, তাকে মানুষ করতে হয়। মানুষ রূপে জন্মে, অমানুষের মত কাজ করলে। সে কখনও মানুষ হয় না। সে হয় মানুষ রূপি শয়তান। 

১৪) ভালো বাসতে জানতে হবে।

একমাত্র ভালবাসাই পারে সব কিছু জয় করতে। ভালোবাসা দিলে তার পরিবর্তে দ্বিগুণ ভালবাসা পাওয়া যায়। টাকার থেকে অনেক বেশি দামী ভালবাসা। মানুষকে ভালবাসতে শিখুন। দেখবেন আপনার কাজ অনেকটা সহজ হয়ে গিয়েছে।

১৫) হিংসা করবেন না।

কারোর উন্নতি দেখে কখনই হিংসা করবেন না। বরং তার পরিবর্তে চেষ্টা করুন। আপনিও ওর মতো হতে পারবেন। কিংবা ওর থেকে আরো বেশি কিছু হতে পারেন। 

১৬) নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন।

হেরে যাওয়া মানে সব শেষ নয়। হেরে যাওয়া মানে আরো নতুন কিছু শেখা। কখনোই বিশ্বাস হারাবেন না। বিশ্বাস হারানো মানে, জীবন যুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্রটি হারিয়ে যাওয়া। কারণ, আপনার কাছে যাবতীয় অস্ত্র থাকলেও । আপনার প্রধান অস্ত্র হল বিশ্বাস। এটা ছাড়া কোন যুদ্ধেই জয়ী হওয়া যায় না। ,,,,

১৭) মায়া, মমতা, করুনা এগুলিকে খুব বেশি প্রশ্রয় দিবেন না।

কারণ, এগুলো সবেই দুর্বল হওয়ার লক্ষণ। মায়া, মমতা, করুনা এগুলিতে খুব বেশি জড়িয়ে যাবেন না। এগুলি থেকে ফিরে আসা খুবই জটিল।

১৮) মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করতে হবে।

এই পৃথিবীতে মিথ্যা বাদীদের কেউ বিশ্বাস করে না।  মিথ্যা কথা বলা উচিত নয়। মিথ্যা কথা বলার জন্য।  হয় আপনি বিপদে পড়বেন না হয় আপনার জন্য অন্য কেউ বিপদে পড়তে পারে। মিথ্যা কথা বলা মহাপাপ। এটি সবসময় মাথায় রাখবেন। 




Post a Comment

Previous Post Next Post