ভালোবাসাকে ভোলার সহজ উপায়।An easy way to forget love.

 

ভালোবাসাকে ভোলার সহজ উপায়। 

তাকে ভুলে থাকার উপায়।



ভালোবাসা একটি প্রাকৃতিক সম্পদ।

 



ভালোবাসা আছে বলেই এখনও পৃথিবী টিকে আছে। সুন্দর ভাবে সবাই বসবাস করছে। না হলে কোন দিন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত। হিংসা,যুদ্ধ, মারামারি করে সব শেষ হয়ে যেত।


প্রেম শুধু মানুষ জাতির জীবনে ঘটে এমন টা নয়, সমস্ত জীব জাতির জীবনেও ঘটে। এবং এটা যুগ যুগ ধরে চলতেই থাকবে। আর যেদিন এই পৃথিবীতে প্রেম থাকবে না। সেদিন জানবে এই বিশ্ব আর থাকবে না।
প্রেম বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যাক সে সব প্রেম নিয়ে আলোচনা করছি না।

 
আজকের মূল বিষয় একজন ছেলে ও মেয়ের  ভালোবাসাকে কি ভাবে ভোলা যায়।



আমি প্রথমেই বলবো । প্রেমকে ভোলা খুবই কঠিন।  কিন্তু চেষ্টা করলে যাকে ভালোবাসো তাকে ভোলা যায়। কি ভাবে ভোলা যায় । চলুন জেনে নেওয়া যাক।


১) আজকের থেকে আপনি তাকেই সবচেয়ে বেশি ঘৃণার চোখে দেখুন। 

যাকে কিনা একদিন সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। কারণ আপনি যদি সত্যিই তাকে ভুলতে চান। তাহলে এটা আপনাকে করতেই হবে। আপনার মনে যদি একটুও দূর্বলতা থাকে ওর জন্য তাহলে আপনি নিজেই কষ্ট পাবেন। ওর তাতে কিছু যায় আসে না।  এতদিন ওর ভালো দিক গুলো ফলো করে এসেছেন। এবার থেকে ওর খারাপ দিক গুলো কে নিয়ে ভাবুন। কেন ওর খারাপ দিক গুলো আপনার কাছে অজানা ছিল। ও আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে। এটা আপনার ভুল নয়। ও আপনার ভালোবাসাকে বুঝতে পারি নি। বরং আপনি জিতে গেছেন।


ওর মনে যদি আপনার প্রতি ভালোবাসা থাকতো। তাহলে এই ভাবে মাঝ পথে ছেড়ে চলে যেত না।

 

২)বাস্তবতা কে মেনে নিতে হবে।

 
কারণ, এখানে আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমরা পৃথিবীতে খালি হাতে এসেছি। আবার খালি হাতেই ফিরে যাব।এর মাঝে কিছু মানুষের সঙ্গে আমরা  সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। তাই বলে একজনের জন্য পুরো লাইফ টাকে বরবাদ করা কি ঠিক। ওর মতো কত আসবে আর যাবে। আপনি মনে করুন , আপনার জীবনে কেউ একজন এসেছিল এবং কিছুটা সময় সুন্দর ভাবে আপনার সাথে খেলা করে গেছে।



৩)বেশিরভাগ সময় নিজেকে কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখা।

যে কাজ গুলো আপনি মনোযোগ সহকারে করেন। বা যে কাজটি করার সময় শুধু কাজের প্রতি মনটা ডুবে থাকে। অন্য কোন চিন্তা মাথায় আসে না। সে কাজ গুলো করুন মনোযোগ দিয়ে।
এটা বলার কারণ। দেখবেন আমরা যখন একা থাকি বা ফ্রী থাকি। তখনি যতো চিন্তা ভাবনা মাথায় এসে ভিড় করে।  তখন অতীতের কথা বেশি মনে পড়ে।সে জন্য ফ্রী টাইম গুলো ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করুন।


৪)রাতে ঘুমানোর সময় গান শুনুন।

সারাদিন হয়তো কাজকর্ম করে সময় টাকে পার করে দিলেন। কিন্তু রাতে কি করবে। সেই জন্য আপনাকে গান শুনতে হবে।( ক)গান শোনার জন্য হেডফোন ব্যবহার করতে হবে। (খ) কোন দুঃখের গান এবং রোমান্টিক গান শোনা চলবে না।(গ)  ডি জে টাইপের গান ও জীবন কে এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সব গান গুলি একটু বেশি সাউন্ড এ শুনতে হবে। তাহলে অন্য ভাবনা গুলো মাথায় আর আসবে না।  এই ভাবে শুনতে শুনতে কখন ঘুমিয়ে পড়বেন ।

 

৫/ বর্তমান কে নিয়ে ভাবতে হবে।


অতীতের কথা, ঘটনা, এগুলি নিয়ে চিন্তা করা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। কারণ আপনার সামনে আর অতীত নেই। আছে শুধু বর্তমান আর ভবিষ্যৎ। আজ পৃথিবীর যতগুলো সাকসেসফুল ব্যক্তি রয়েছেন। তারা সবাই বর্তমান আর ভবিষ্যৎ কে ফলো করে এগিয়ে গেছেন। প্রতিটি মানুষের জীবনেই অতীতে কিছু না কিছু খারাপ সময় এসেছে। তবুও তারা আজকে জয়ী হয়েছেন। 



অতীত জীবনে শুধুই কষ্ট দেয়। আর ভবিষ্যৎ জীবন কে এগিয়ে নিয়ে যায়। বাঁচার জন্য পথ দেখায়।
আপনি যদি এগুলি সঠিক ভাবে মেনে চলতে পারেন । তাহলে একদিন আপনি নিজেই নিজেকে বলবেন যে, কি পাগল ই না ছিলাম। একটা মেয়ের জন্য খাওয়া দাওয়া ভুলে, রাত জেগে, গোপনে চোখের জল ফেলে কত কিছুই না করেছিলাম।


৬)যে কাজটি বুক ফাটলেও করতে হবে।


ওর যদি কোন গিফট বা কোন ছবি বা কোন চিহ্ন থেকে থাকে । সে গুলিকে কোন নদীতে বিসর্জন দিতে হবে ।  কারণ এগুলি যত দেখবেন তত দুর্বল হয়ে যাবেন।
এগুলি আপনি এতো পূজা করেছেন। যে এর মায়া সহজে ভুলতে পারবেন না। তাই বিসর্জন দিতে বলছি।

 



৭) খাবার, পোশাক, কালার, পারফিউম, ইত্যাদি ।


(ক) আপনি যে খাবার গুলি ওর সঙ্গে খেতেন বা ওর যে খাবার গুলো প্রিয় ছিল। সে গুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। ( ক) এর অনুরূপ (খ) পোশাক  (গ) রং

 (ঘ) পারফিউম এমন একটি বস্তু বা আমদের নাক এমন একটি ইন্দ্রীয় যা প্রেমের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস। আপনি হয়তো তাকে ভুলে যাবেন। কিন্তু আপনার নাক তাকে সহজে ভুলবে না। উদাহরণ; যখনি কেউ সেই পারফিউম ব্যবহার করে আপনার সামনে দিয়ে যাবে। তখন আপনি যতোই ব্যস্ত থাকুন না কেন। আপনার ঠিক তার কথা মনে পড়ে যাবে।  তাই এগুলো থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন।

 

৮)স্থান পরিবর্তন।


ভালবাসাকে ভোলার এই একটি কার্যকারি উপায়। যদি কেউ স্থান পরিবর্তন করতে পারে। তার সমস্ত অনুভূতি গুলো আস্তে আস্তে মন থেকে মুছে যেতে পারে। এইভাবে, সেই ফুচকা কাকুর সাথে আর দেখা হবে না। সেই পুকুর পাড়ের বাঁকানো পেয়ারা গাছের ডালে আর বসা হবে না। সেই বন্ধুর সাথে আর দেখা হবে না। যে কিনা একসময় কত সাহায্য করে ছিল। আরো কত কি ছিল। (বোঝার জন্য এটুকু যথেষ্ট) কিছু দিন পর
ধীরে ধীরে একসময় সব রুপ কথার গল্পের মতো মনে হবে।

৯) সামনাসামনি মোকাবিলা করা।


আপনি যদি মানসিক ভাবে শক্তিশালী হন। মনের জোর যদি একটু বেশি থাকে । তাহলে সামনাসামনি মোকাবিলা করুন।
নিজের মনকে বলুন। ও গেছে তো কি হয়েছে। ওর থেকে অনেক গুনে ভালো। জীবন সঙ্গী পাবো। সে হয়তো আমাকে চিনতে পারে নি। এবার সে ভালো করে
চিনতে পারবে । যে আমি কে।
এরকম যদি আপনার মনের জোর থাকে। তাহলে আমি বলবো। ১/ থেকে ৮/ পর্যন্ত টিপস গুলো আপনার ফলো করার দরকার নেই।  আপনি পারবেন।


কিন্তু এক্ষেত্রে অনেকেই সেটা পারে না। মানসিক ভাবে অনেকেই দুর্বল হয়ে পড়ে। সঠিক জ্ঞান থাকে না। মস্তিষ্ক ঠিক মতো কাজ করে না। 

অনেকেই তো আবার নেশা জাতীয় জিনিস গুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ে।  আমি বলব নেশা করে হয়তো সাময়িক কিছুক্ষনের জন্য শান্তি পাবেন। কিন্ত একেবারেই রেহাই পাবেন না। তাই এসব থেকে দূরে থাকুন। এতে আপনার এ মঙ্গল।
উপরের টিপস গুলো যদি ভালো করে ফলো করতে পারেন বা অভ্যাস করতে পারেন। তাহলে তাকে ভুলে যাওয়া টা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
সবচেয়ে বড়ো কাজ হচ্ছে আপনার মনকে বোঝাতে হবে।

১০) মন কে ড্রাইবেট করা শিখতে হবে।

 
যখনি তার কথা মনে আসবে। তখনি অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে হবে। বা অন্য কোন কাজ করতে হবে। এই ভাবে মনকে ডাইব্রেট করা শিখতে পারলে। আপনি জীবনে অনেক বড়ো বড়ো সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। 


কোন দুঃখ,কষ্ট আপনাকে কাবু করতে পারবে না।
কেউ যদি এই টিপস গুলো সঠিক ভাবে ফলো করতে পারে। তাহলে শুধু ভালোবাসা নয়। জীবনের অনেক ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবে।


ভাগ্য কাকে বলে? সত্যিই কি ভাগ্য বলে কিছু আছে?

নেশা কি? নেশা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়।


ভালোবাসা কি? ভালোবাসা হয় কি ভাবে?




Post a Comment

Previous Post Next Post