ভালোবাসা কি?
ভালোবাসার বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি?
বর্তমান যুগের ভালোবাসা কেমন? ভালোবাসা কি ভাবে হয়?
ভালোবাসা কত রকমের হয়ে থাকে?
ভালোবাসাকে ভোলার সহজ উপায়?
গোপনে কেউ ভালোবাসে কিনা জানার সহজ উপায়?
ভালোবাসা কি?
চোখ,কান,নাক,মুখ, মস্তিষ্ক এগুলোর সাহায্যে আমরা যখন কোন বিষয় নিয়ে গভীর ভাবে। ভাবতে শুরু করি তখন আমাদের শরীরে, মনে, মস্তিষ্কে, এক ধরনের ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টি হয় এবং এটি দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। আর এর ফলে মস্তিষ্কে এক ধরনের ডোপামিন নামক কেমিক্যাল নিঃসরণ হয়। যার ফলে সেই ব্যক্তি বা কোন বস্তুর প্রতি এক রকম আনন্দ অনুভব করি। যখন তার সামনে থাকি বা তার সঙ্গে কথা বলি তখন চোখে মুখে একটা উজ্জ্বল ভাব ফুটে ওঠে। অপরদিকে সে যখন সামনে না থাকে মনের মধ্যে তাকে কাছে পাওয়ার জন্য অস্তির হয়ে উঠি এবং দিনের বেশিরভাগ সময় তার থাকাই ভাবতে শুরু করি। এই সব কিছুর মানেই হচ্ছে ভালোবাসা।
ভালোবাসার বৈশিষ্ট্য:
ভালোবাসার বৈশিষ্ট্য তখনি ফুটে ওঠে যখন একটা মানুষ কাউকে ভালোবাসতে শুরু করে। একটা মানুষ যখন কোন কিছুর প্রতি খুশি অনুভব করে ও মনোযোগ দিয়ে থাকে এবং তাতে বিন্দুমাত্র বিরক্তি প্রকাশ না করে সেই কাজটি করতে পারে।
ভালোবাসার বৈশিষ্ট্য গুলো নিচে দেওয়া হলো:
ক) শরীরে ও মনে একরকম ভালোলাগার সৃষ্টি হয়।
খ) বার বার তার কথায় ভাবতে শুরু করে মনের অজান্তেই।
গ) সে ছাড়া বা তাকে ছাড়া মন চঙ্গল হয়ে উঠে।
ঘ) সে কাছে থাকলে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দামী জিনিস টি তার কাছেই আছে।
ঙ) অপরদিকে সে না থাকলে মনকে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
চ) কাজে মনোযোগ দেওয়া যায় না।
ছ) ঘুম অনেক দেরিতে আসে।
জ) হঠাৎ করেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে চোখে পড়ে।
ঝ) দিনের বেশিরভাগ সময় তার কথা ভাবতে এবং তার সাথে সময় কাটাতে মন অস্থির হয়ে উঠে।
ভালোবাসা কত রকমের হয়ে থাকে?
ভালোবাসা কত রকমের হয় এবং ভালোবাসা কি। এর সঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।
কারণ, ভালোবাসা শুধু মাত্র নর নারীর এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ভালোবাসা পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর মধ্যেও হতে পারে। যেমন, পশু ,পাখি ,জীব ,জন্তু এদের মধ্যেই ভালোবাসা হয়। আবার এদের কেউ আমরা ভালোবেসে থাকি। আবার পৃথিবীর কোন কোন বস্তুকে ভালোবেসে থাকি। উদাহরণ: হীরা, সোনা,রূপা, গহনা ইত্যাদি। অপরদিকে আবার সমুদ্র, পাহাড়, জঙ্গল, ঝর্না ইত্যাদি। কিন্তু এই ভালোবাসার একটু অন্যরকম হয়ে থাকে।
তাও যে সকল ভালোবাসার গুরুত্ব বেশি সেই সব নামগুলো লিখছি যেমন......
১) দেশপ্রেম:
দেশকে ভালোবাসা বা দেশের মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা।
সবচেয়ে বড় ভালোবাসা হল দেশকে ভালোবাসা।
২) মা বাবা কে ভালোবাসা:
আমার মনে হয়, পৃথিবীতে যদি সবচেয়ে বড় অন্যায় বা অপরাধ করা হয়। সেটা হল নিজের মা বাবার দেখভাল না করা এবং মা বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা।
৩) নিজের জীবন কে ভালোবাসা:
মানে, নিজেকে ভালোবাসা। তুমি যদি নিজেকে না ভালোবাসতে পারো। তাহলে তুমি কাউকে সঠিক ভাবে ভালোবাসতে পারবে না।
৪) জীবন সঙ্গী হিসেবে কাউকে ভালোবাসা:
এই ভালোবাসা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। আর এই ভালোবাসাকে নিয়েই পুরো পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা ইত্যাদি, কাহিনী নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র জগৎ।
এই ভালোবাসা হল, একটি নারী এবং একটি পুরুষ এর ভালোবাসা। এই ভালোবাসার মূল বিষয় গুলো হলো, একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া।
আর বিশ্বাস নামক অদৃশ্য বিষয় নিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারা। কারণ, এই ভালোবাসার মধ্যে "বিশ্বাস "যদি হারিয়ে যায় বা একে অপরের প্রতি বিশ্বাস না থাকে। তাহলে এই ভালোবাসা আর বেশী দূর এগিয়ে যেতে পারে না।
আমি এরকম অনেক ভালোবাসা দেখেছি' যেখানে প্রেমিক প্রেমিকা ভালোবেসে বিয়ে করার পরেও তাদের সাংসারিক জীবনে সাফল্য অর্জন করতে পারে না। সংসারে নানা ধরনের অশান্তির মূল কারণ হলো বিশ্বাস। তাদের মনে সন্দেহ ও বিশ্বাসের অভাবের কারণে ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত কোথায় যেন হারিয়ে যায়।
৫) ত্রিকোণ প্রেম:
এই প্রেমের শুরুটা হয় এক ভাবে কিন্তু শেষ টা হয় নির্মম ভাবে। শেষ পর্যন্ত যে কোন একজন কে পথ থেকে সরে যেতে হয়।
এই প্রেমে একটি মেয়ে ও দুটি ছেলে বা দুটি মেয়ে একটি ছেলেকে নিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
৬) অসমবয়সী প্রেম:
এই ভালোবাসা হল একটি কমবয়েসী মেয়ে আর একটি বেশী বয়সী পুরূষের প্রেম বা একটি বেশী বয়সী মহিলা আর একটি কম বয়সী ছেলের শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
৭) কাজকে ভালোবাসা:
আজ যারা নিজের কাজ কে ভালোবেসেছে তারাই জীবনে সাফল্য পেয়েছে। জীবনে চলার পথে সুখ শান্তি অর্জন করতে পেরেছে।
তাই আমাদের সবার উচিত নিজের কাজকে ভালোবাসা।
বিল গেটস বলেছেন, যদি তুমি ক্ষণিকের জন্য সুখ চাও তাহলে গান শুনে নাও।
যদি তুমি একদিনের সুখ চাও তাহলে পিকনিকে বেরিয়ে পড়ো।
যদি তুমি এক সপ্তাহের জন্য সুখ চাও তাহলে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ো।
যদি তুমি দুমাসের সুখ চাও তাহলে বিয়ে করে ফেলো।
আর যদি তুমি কয়েক বছরের জন্য সুখ চাও তাহলে টাকা রোজগার করো।
এবং যদি তুমি সারা জীবনের জন্য সুখ চাও তাহলে কাজকে ভালবাসো।
৮) ফুলের বাগানকে ভালোবাসা:
এক ধরনের মানুষ আছে যারা যারা শুধুমাত্র গাছপালার দেখভাল করে থাকে। গাছেদের সাথে ফুলের সাথে মনে মনে কথাও বলে। এরা হল এক কথায় প্রকৃতি প্রেমী।
৯) গাড়ী প্রেমী:
অনেকেই আছে যারা গাড়ীকে ভীষন ভালো বাসে।
১০) কোন পোষ্য কে ভালোবাসা:
যেমন কুকুর, বিড়াল, বা কোন পাখি ইত্যাদি কে ভালোবাসা। এই ভালোবাসা বেশি লক্ষ্য করা যায় বাচ্চাদের মধ্যে।
এগুলো কিন্তু এক ধরনের ভালোবাসা। নারী পুরুষের ভালোবাসার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
এরকম আরো অনেক ভালোবাসা আছে .......
বর্তমান যুগের ভালোবাসা কেমন?
সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়। আমাদের চাওয়া পাওয়া জীবন যাত্রার মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। তার মধ্যে ভালোবাসা হল একটি। কিছু বছর আগে পর্যন্ত, নারী পুরুষের ভালোবাসা ছিল অন্য রকম।
আজ সেই ভালোবাসা হয়ে উঠেছে আর এক রকম। এখন তের চোদ্দ বছর বয়স থেকেই ছেলে মেয়েরা প্রেমের খেলায় মেতে উঠেছে। যারা জানেই না সত্যি কারের প্রেম কি? ভালোবাসা কি?
যদিও এটা ওদের দোষ নয়। এটা সময়ের দোষ, বর্তমান যুগের দোষ। আগে এমনটা ছিল না।
আমার মনে হয়। এসবের মুল কারন হল, অতিরিক্ত টিভিতে সিরিয়াল দেখা, রোমান্টিক মুভি দেখা, রোমান্টিক প্রেমের বই পড়া এবং সবচেয়ে যেটা ওদের মাথা নষ্ট করা বস্তু সেটা হল মোবাইল ফোন।
এর ফলে এরা জীবনের মুল উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বাকিটা কি ঘটছে আপনি একটু ভালো করে খেয়াল করলেই দেখতে পারেন।
আর বড়দের তো বলার নেই। বিশেষ করে যুবক যুবতীর প্রেম মানেই আগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা। তার পর অন্য কথা।
এখনকার দিনে এক একটি ছেলে বা মেয়ে দশ বারোটা করে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। ( এর সঠিক সংখ্যা টা আরো বেশি হতে পারে)
এক কথায় প্রেম নিয়ে লুকোচুরি খেলা শুরু হয়েছে বর্তমান সময়ে।
আর এর সাথে সাথে একটা জিনিসের ব্যবহার খুব বেড়েছে, সেটা হল মিথ্যে কথা বলা। (যদিও সবাই এমন হয় না)
তারপর বাকিটা তো ইতিহাস...........
ভালোবাসা হয় কি ভাবে?
আগেই বলেছি চোখ, কান,নাক,মুখ, মস্তিষ্ক ভালোবাসা সৃষ্টির মুল উপকরণ।
প্রথমে আমাদের চোখে কাউকে ভালোলাগে, কারণ সুন্দর জিনিস সবার চোখেই দেখতে চায়। তারপর চোখ সেই ডেটা বা তার একটি ছবি মস্তিষ্কে পৌঁছতে সাহায্য করে।
আর এই মস্তিষ্ক যদি তার নিয়ে ৩০ সেকেন্ড এর বেশি ভাবতে শুরু করে। তাহলেই জানতে হবে তাকে আপনার ভালো লাগতে শুরু করেছে বা তার সন্মন্ধে খারাপ কিছু ভাবতে শুরু করেছে।
এখানে খারাপ ভাবার মানে হল, কাউকে চোখে দেখেই তো আর ভালো লাগে না। অনেক সময় খারাপ কিছুও দেখে থাকি।
কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম দেখায় ভালো মনে হলেও পরবর্তীতে তার কথা, ও আচরণের জন্য তাকে আর ভালোবাসাতে মন চায় না।
এছাড়াও আরও কয়েকটি কারণেই জন্য তাকে ভালোবাসতে পারি না।
যেমন, পরবর্তী সময়ে আর তার সাথে দেখা না হওয়া।
তার সাথে কথা বলার চান্স না থাকা।
উদাহরণ:
কোন একটি জায়গায় বেড়াতে গেছেন, সেখানে হঠাৎ কাউকে প্রথম দেখায় ভীষন ভালো লাগলো।
কিন্তু তার সাথে আর পরবর্তী সময়ে দেখা হলো না, বা আর কথা বলার কোন চান্স থাকলো না।
আর আপনি ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলেন। তো এই ক্ষেত্রে আপনি কি করবেন? এই ক্ষেত্রে এটাই হবে সেটা হল, আপনি বাড়ি ফিরে আসার সময় তার কথা ভাববেন, এবং বড়জোর চার পাঁচ দিন তার কথা ভাববেন বা আপনার মনে পড়বে তার কথা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার কথা আপনার আর মনে আসবে না। তাকে আপনি এক সময় ভুলে যাবেন।
উদাহরণ:
আমরা অনেক সময় সিনেমার নায়ক নায়িকার প্রেমে পড়ে যাই। মানে তাদের ভীষণ ভালো লেগে যায়। তাদের কে পর্দায় দেখতে পাই ঠিকই কিন্তু তাদের সাথে সামনাসামনি কথা বলতে পারি না। তাই ধীরে ধীরে এক সময় নিজেদের ভুল বুঝতে পারি এবং তাকে ভুলে গিয়ে ওর মতো কাউকে বাস্তবে খোঁজার চেষ্টা করি।
ভালোবাসা আমাদের জীবনে তখনি সাকসেসফুল হয়। যখন কয়েকটি বিষয় আমাদের সাথে ঘটতে থাকে।
যখন কোন ব্যক্তি কারো রূপ, গুন, ব্যবহার, কথা বলার টেকনিক, পোশাক, শরীরের গঠন ইত্যাদি বিষয় গুলোর উপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তখন সেই ব্যক্তির তাকে ভালো লাগতে শুরু করে। আর এই ভালো লাগা যখন কয়েকটি বিষয় এর উপর দিয়ে এগিয়ে চলে তখন সেটা ভালবাসায় পরিনত হয়।
যেমন, যাকে ভালো লাগে তার সাথে যদি মাঝে মধ্যে দেখা হয় এবং তাদের মধ্যে যদি কথা শুরু হয়। আর এই কথা বলা যদি তাদের মধ্যে দিনের পর দিন বাড়তে থাকে তাহলে সেটা ভালোবাসা কিংবা ভালো বন্ধু হতে পারে।
এখানে মুখ্য ভূমিকা হচ্ছে যোগাযোগ।
কারণ যোগাযোগ না থাকলে প্রেম বা বন্ধুত্ব কোন কিছুই বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না।
উদাহরণ:
আমরা কাউকে চোখে না দেখেও কারো প্রেমে পড়তে পারি। যেমন, যদি কারো নিয়ে প্রচুর প্রশংসা করা হয়, এবং বার বার সেই প্রশংসা শুনতে হয়। তাহলে আমাদের মাথায় সেই প্রশংসিত ব্যক্তির কিছু ভালো দিক এবং তার কাজ সম্পর্কে একটা মনোভাব তৈরি হয়। আর তাকে দেখার জন্য মনের মধ্যে একটা শূন্যতার সৃষ্টি হয়।
যদি কোন কারনে তাকে দেখতে না পাই, কিন্তু তার সাথে কোন যোগাযোগ করার মাধ্যম পাই যেমন........
ফোন নম্বর, ফেসবুক, চিঠি ইত্যাদি । তখন তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। এই ভাবে তাকে না দেখা সর্তেও তার সাথে কথা বলতে বলতে এক সময় তার কথার জাদুতে কিংবা আপনার কথার কৌশলে এক সময় সেটা প্রেমের কিংবা ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে.......
কিন্তু প্রেম, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব যাই হোক না কেন। এর প্রধান উপাদান হল, যোগাযোগ, বিশ্বাস আর একটি সুন্দর মন।
কারণ এগুলো না থাকলে পৃথিবীর কোন ভালো সম্পর্ক বেশি দিন টিকবে না............









Post a Comment