আমারা জীবনে চলার পথে মানুষের সাথে কত গুলো ভুল আচরন করে থাকি । যে গুলো আমাদের মোটেও করা উচিত নয় এবং কারোর মনে অকারণে দুঃখ দেওয়া ঠিক নয়। আজ থেকেই আমাদের এই খারাপ অভ্যাস গুলো সংশোধন করার চেষ্টা করি।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মেডিটেশন করুন। এতে আপনার মন ভালো থাকবে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
চলো জেনে নেওয়া যাক খারাপ অভ্যাস গুলো কি কি?
১) কেউ কথা বলার সময় তাকে মাঝখানে থামিয়ে কথা বলা ঠিক নয়।
আপনি আগে তার কথা গুলো মন দিয়ে শুনুন। তারপর সেই ব্যক্তির কথার শেষে আপনার মতামত জানান। এতে আপনার চিন্তা ধারাকে ইতিবাচক করে তুলবে।
৪) পাবলিক প্লেসে এগুলো করবেন না।
৫) বাড়িতে কোনো রুমে ঢোকার আগে টোকা দেওয়া উচিত।
৭)অন্যের প্রছন্দ অপছন্দ কে গুরুত্ব দিন।
৮) কারোর সাথে কথা বলার সময় ফোন চালাবেন না।
১৫) ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক কে ডিস্টাব করবেন না।
২) অপরিচিত কোন ব্যক্তিকে তুই বলাটা অভদ্রতা ।
সে যদি কোন হকার হয় তবুও তুই বলাটা খারাপ। কারণ সেও একজন মানুষ। তারও মন বলে কিছু আছে। তাই কাউকে ছোট ভাবা উচিৎ নয়।
৩) কারোর সাথে অনেক দিন পর দেখা হলে এই কথা গুলো বলবেন না।
যেমন, আগের থেকে অনেক শুকিয়ে গেছিস, অনেক মোটা হয়ে গেছিস, অনেকটা কালো হয়ে গেছিস, চুল পেকে গেছে ইত্যাদি। কারণ কারোর ব্যক্তিগত ব্যাপারে বা তার চেহারা বা লুক নিয়ে কথা বলা অভদ্রতা।
৪) পাবলিক প্লেসে এগুলো করবেন না।
যেমন, প্রেমিক প্রেমিকা,বা স্বামী স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কিস করা। সাবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বাবু, সোনা, জানু বলা, এগুলি থেকে বিরত থাকুন। কারণ আপনার চারপাশে এমন কেউ থাকতে পারে। যাদের হয়তো ব্রেকআপ হয়েছে বা ডিবোস হয়েছে। কিংবা কেউ মানসিক কষ্টে আছে।
৫) বাড়িতে কোনো রুমে ঢোকার আগে টোকা দেওয়া উচিত।
ঘরের মধ্যে যদি কোনো যত্নপ্রিয় ব্যাক্তিও থাকে তবুও এই কাজটি করুন। এমনকি বাড়ির সবচেয়ে ছোট শিশু টিও যেন এরকম আচরন মেনে চলে সেটিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
৬) যে সকল জায়গায় চুপ থাকা উচিত।
যেমন হসপিটাল, ওয়েটিং রুম, বা যে সকল জায়গায় নিরবতা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া থাকে। সে সকল জায়গায় নিজের মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখুন। আর আপনিও আস্তে কথা বলুন।
৭)অন্যের প্রছন্দ অপছন্দ কে গুরুত্ব দিন।
আপনার নিজের যেমন একটা পছন্দ আছে। সে রকম অন্য মানুষেরও আলাদা পছন্দ থাকতে পারে। সেটাকে আপনার উচিত সমান ভাবে গুরুত্ব দেওয়া।
৮) কারোর সাথে কথা বলার সময় ফোন চালাবেন না।
আমরা এই ভুলটি প্রায় করে থাকি। সামনে অপর ব্যক্তির সাথে কথা বলতে বলতে ফোন চালাতে থাকি। যতটা সম্ভব এই অভ্যাসটা দূর করতে হবে। এটা একটা অভদ্রতা।
৯) কারোর দিকে আঙ্গুল তুলে নির্দেশ করা।
অপরিচিত কাউকে আঙ্গুল দিয়ে ডাকা বা নির্দেশ করাও একটি খারাপ অভ্যাস। অপরদিকে আপনি সেই ব্যক্তির কাছে খারাপ হয়ে যাবেন।
১০) লোকালয়ে এগুলো করবেন না।
যেমন, চুল আঁচড়ানো, জোরে হাই তোলা, মুখে কিছু না নিয়ে হাঁচি বা অনবরত কাঁশি দেওয়া, মুখে হাত দিয়ে নখ কাটা এগুলো ভালো লক্ষন না।
১১) কারোর ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলাবেন না।
সেই ব্যক্তিটি যদি আপনার কাছে পরামর্শ চাই, তবেই আপনি পরামর্শ দিবেন। না হলে নিজের থেকে কিছু করতে গেলে। আপনি অপমানিত হতে পারেন।
১২) যখন কেউ পাসওয়ার্ড টাইপ করবে,তখন সে দিকে তাকানো উচিত নয়।
১৩) কোন নতুন জায়গায় গিয়ে, আগেই মোবাইল নিয়ে ছবি তুলবেন না।
আপনি সামনাসামনি আগে সুন্দর জায়গাটিকে উপভোগ করুন। তার পর ছবি তুলুন। কারণ, সামনাসামনিতে আপনি যে আনন্দ পাবেন। মোবাইলের ছবিতে সে আনন্দ পাবেন না।
১৪) সঠিক ভাবে হাঁটুন।
হাঁটার সময় যেন, ধুলোবালি না উড়ে এবং শব্দ না করে। আর বেশি পা ঘেঁসে হাঁটবেন না। এতে আপনার দুর্বল মানসিকতার প্রকাশ করে।
১৫) ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক কে ডিস্টাব করবেন না।
হয়তো আপনি অনেক বুদ্ধিমান। তার মানে এই নয় যে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক কে বার বার প্রশ্ন করে ডিস্টাব করতে থাকবেন। এতে করে ক্লাসের ডিসিপ্লিন নষ্ট হবে। আপনি বরং ক্লাসের শেষে জেনে নিন।
১৬) আমার কি আছে লোকেদের বাড়িয়ে বলবেন না।
আমার কাছে এই আছে, আমার কাছে ওই আছে। লোকেদের বলবেন না। পারলে নিজের জ্ঞান,বুদ্ধি, আর প্রতিভা কে নিয়ে বলুন। লোকেদের সাহায্য করুন।
১৭) কারোর গোপন কথা অন্য কাউকে বলা উচিত নয়।
আপনি যদি কারোর গোপন কিছু জানতে পারেন তাহলে সেটি নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন। যদি সত্যিই খারাপ দিক হয় তাহলে বলুন। কিন্তু অন্য কারোর কথা বাড়িয়ে বলবেন না। এতে করে আপনি সেই ব্যক্তির কাছে খারাপ হয়ে যাবেন। দ্বিতীয় বার আপনাকে আর বিশ্বাস করে কিছু বলবে না।
১৮) বয়সে বড় ব্যক্তিদের সন্মান দেওয়া।
যদি আপনি সিটে বসে আছেন এবং আপনার পাশে কোন বয়স্ক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। সে ক্ষেত্রে আপনার উচিত সেই ব্যক্তিটিকে বসতে দেওয়া। এটি বাসে, ট্রেনে, মেট্রোতেও হতে পারে। যদি আপনার গন্তব্যস্থল সামনে হয় তবেই।
১৯) কেউ যদি আপনাকে সাহায্য করে।
যদি কোন ব্যক্তি আপনাকে সাহায্য করে থাকে। তাহলে তাকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না। সে যদি গরীব বা রিক্সা বালাও হয় তাকে ধন্যবাদ জানাবেন। কারণ ধন্যবাদ জানালে আপনি ছোট হয়ে যাবেন না বরং কৃতজ্ঞতা লাভ করবেন।
২০) কাউকে বক্সিস দেওয়া।
যেমন, কোন রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পর ওয়েটার কে বক্সিস দেওয়ার সময় অবশ্যই সন্মানের সাথে দিবেন।যেন সে অপমানিত বোধ না করে। দরকার হলে দেবেন না তবুও ঠিক আছে।
একজন ইতিবাচক চিন্তা ধারার মানুষ হওয়ার চেষ্টা করুন। মানুষকে ভালবাসতে শিখুন। দেখুন ভদ্রতা কোন দূর্বলতা নয়। ভদ্রতা হল গুরুজন, মা বাবার থেকে পাওয়া শিক্ষা । আর এই শিক্ষাকে কোন মুল্য দ্বারা কোন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিনতে পারবেন না। আপনি একজন ব্যক্তি হিসেবে কতটা সৎ , কতটা ভালো তা নির্ভর করে আপনার ব্যবহার, আচরন এবং অভ্যাস এর উপর । আপনি সত্যিই যদি একজন ভালো মনের মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেন তো এই আজকের বলা কথাগুলো মনে রাখবেন। এগুলি আপনার জীবনে চলার পথে সব সময় কাজে লাগবে।










Post a Comment