এক তরফা ভালোবাসা কি? এক তরফা ভালোবাসার সুবিধা এবং অসুবিধা গুলো কি?
ভালোবাসা জিনিসটা খুবই অদ্ভুত এক অনুভূতি। একটি মানুষের জীবনে যখন ভালোবাসা আসে। তখন তার মধ্যে কত গুলো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
হোক না সেটা এক তরফা ভালোবাসা, তবুও তাকে নিয়ে নানা ধরনের স্বপ্নের জাল বিস্তার করতে থাকে মনের অজান্তেই।
সে জানে, তাকে সে পাবে না। তবুও মনের গভীরে কোথায় যেন তার জন্য একটা আলাদা অনুভূতি থেকে যায়।
তাকে কল্পনা করে, একটা আলাদা সুখ পাওয়া যায়, মনে শান্তি পাওয়া যায়।
এবার জানা যাক,
এই এক তরফা ভালোবাসা কি?
এক তরফা ভালোবাসা কি ভাবে হয় এবং কাদের মধ্যে এই ভালোবাসা বেশি লক্ষ্য করা যায়?
এই ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না কেন?
শেষ পর্যন্ত কি এই ভালোবাসার মধ্যে পূর্ণতা পাওয়া সম্ভব?
এক তরফা ভালোবাসা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি?( ভালোবাসাকে ভোলার সহজ উপায়)
এক তরফা ভালোবাসা কি?
ভালোবাসা বলতে আমরা বুঝি, দুটি মানুষের মনের মিলন বা হৃদয়ের মিলনকে পূর্ণ ভালোবাসা বলা হয়।
কিন্তু এখানে দুটি মানুষ থাকলেও দুটি মনের বা হৃদয়ের মিলন হয় না, বা সম্পূর্ণ হয় না।
একজন অন্য জনকে শুধু মাত্র মনে মনে বা কল্পনাতেই দিনের পর দিন ভালোবাসাতে শুরু করে। কখনোই মুখ ফুটে বলতে পারে না তার ভালোবাসার কথা সেই স্বপ্নের রাজকুমারী বা রাজকুমার কে।
চিরদিন এই ভাবেই তাদের ভালোবাসা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কখনোই প্রকাশ পায় না একজনের ভালোবাসা অন্য জনের মধ্যে দিয়ে..............
এই হলো সেই এক তরফা ভালোবাসা।
কি ভাবে হয় এক তরফা ভালোবাসা?
আমাদের মনে প্রথম যখন ভালোলাগার ঢেউ উঠে বা কাউকে ভালো বাসতে শুরু করে আমাদের মন।
তখন আমরা মনের কথাই বেশি শুনে থাকি এবং মস্তিষ্ক থেকে একটু দূরে সরে যাই।
তখন আমাদের মন যা চায় তাই চোখ বুজে সেটাই অনুসরণ করি বা করে থাকি।
এখানে একটা কথা বলে রাখি, এই মনের কথা শুনে বা যে মুহূর্তে আপনি পুরোপুরি মনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
তখন তাকে যদি ভালোবাসার কথা বলতে পারেন। তাহলে আপনাকে আর এক তরফা ভালোবাসার যন্ত্রনা সহ্য করতে হবে না।
কিন্তু এই সময় টা যখন পার হয়ে যায় তখন মনের মধ্যে সেই আগের আবেগ, অনেক টাই কমে আসে এবং মস্তিষ্কের কাজ মস্তিষ্ক শুরু করে দেয়।
তখন মন চাইলেও মস্তিষ্ক দারুন ভাবে বাধা দেয়। তখন মন আর মস্তিষ্কের মধ্যে লড়াই চলতে থাকে।
এক একবার মনে হয়, তাকে আমার ভালোবাসার কথা জানিয়ে দি, কিন্তু তার পরেই মস্তিষ্ক বাধা দেয়,যদি সে না পছন্দ করে আমাকে? আমি যা ভাবছি সে যদি না ভাবে, সে যদি আমাকে শুধু মাত্র বন্ধুর চোখে দেখে।
এখানে অনেক গুলো 'যদি' চলে আসে যার ফলে ভালোবাসার আর প্রকাশ ঘটে না। ধীরে ধীরে এই ভালোবাসা এক তরফা ভালোবাসায় রূপান্তরিত হয়।
এই ভালোবাসা কাদের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যায়?
যে সকল মানুষেরা দিনের বেশিরভাগ সময় একা থাকতে পছন্দ করে।
যাদের বিশেষ বন্ধু বান্ধব নেই বললেই চলে।
আর যারা একটু বেশি লাজুক প্রকৃতির হয়ে থাকে এবং কল্পনা প্রবণ হয়ে থাকে। তাদের মধ্যেই এক তরফা ভালোবাসা বেশি দেখা যায়।
এই ভালোবাসা আর এক রকম ভাবেও হঠাৎ করে কারো জীবনে আসতে পারে।
উদাহরণ: কোন প্রেমিক প্রেমিকার যদি হঠাৎ করে কোন কারণে তাদের মধ্যে ব্রেক আপ হয়ে যায়।
তার পর যদি কেউ একজন তাকে ভুলতে না পারে বা তার কথাই চিন্তা ভাবনা করে যায়। তখন এটাও সেই ভুলতে না পারা ব্যক্তির কাছে এক তরফা ভালোবাসায় পরিণত হয়।
এক তরফা ভালোবাসায় পূর্ণতা লাভ করা কি সম্ভব?
এক তরফা ভালোবাসায় পূর্ণতা লাভ করা অবশ্যই সম্ভব।
শুধু মাত্র ইগো না দেখালে এই ভালোবাসা ১০০% লাভ করা সম্ভব।
ইগো দেখানোর জন্য জন্য এই ভালোবাসা আজ অনেকের কাছে জটিল এবং অসম্পূর্ণ থেকে গেছে।
এছাড়াও দরকার একটু সাহসের। সাহস করে মনের কথা তাকে বলতে পারলে এই ভালোবাসা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
অনেক সময় মনের জোর এবং সাহস থাকলেও হৃদয়ের মধ্যে কোন সাহস থাকে না। তার সামনাসামনি আসলেই হৃদয় তখন প্রচন্ড বেগে চলতে থাকে। আর মনে হয় যেন এখুনি হার্টবিট ফেটে বেরিয়ে যাবে..........
যাইহোক আসল কথা হলো, যদি আপনি আপনার মনের মানুষ কে সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে বলতে পারেন আপনার মনের কথা।
তাহলে আমি বলবো আপনি লাভবান হবেন।
কারণ, হয় আপনি আপনার ভালোবাসা পেয়ে যাবেন।
আর না হয় তার কাছ থেকে এমন কিছু অজানা জিনিস জানতে পারবেন, যা আজ পর্যন্ত কেউ আপনাকে বলেনি বা এমন এক শিক্ষা পাবেন যা আপনার সারাজীবন মনে থাকবে।
বা আপনার মধ্যে এমন কোন দোষ গুণ আছে যা আজ পর্যন্ত কারো চোখে পড়েনি কিন্তু সে খুব সহজেই আপনার দোষ গুণ আপনার সামনে কত সুন্দর ভাবে একটার পর একটা বলে যাবে।
আর আপনি শুধু অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন।
তবে আমি বলবো দিনের পর দিন একটা মানুষকে মনে মনে ভালোবেসে কোন লাভ নেই।
হয় তার কাছে প্রকাশ করুন, না হয় আপনার নিজের কাজ নিয়ে জীবনের উদ্দেশ্য এগিয়ে যান। জীবনে যখন সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যাবেন।
তখন দেখবেন এই প্রেম নামক শব্দ দুটি শুধু শব্দই।
এক তরফা ভালোবাসার সুবিধা এবং অসুবিধা:
এই ভালোবাসার সুবিধা হল:
আপনাকে শুধু শুধু তার রাগ ভাঙ্গানোর জন্য তার হাতে পায়ে ধরতে হবে না।
আপনি অন্য কারো সাথে কথা বললে, আড্ডা দিয়ে থাকলে, আপনার দিকে কেউ আগুনের চোখে তাকিয়ে থাকবে না।
আপনার সবচেয়ে যেটা বেড়ে যাবে, সেটা হল অর্থ ভান্ডার। শুধু শুধু অর্থ অপচয় হবে না।
আর এর সাথে যে মূল্যবান জিনিস টাকে পাবেন সেটা হল, বাড়তি কিছুটা মূল্যবান সময়।
এছাড়াও কারোও জন্য অপেক্ষা করে বোর হতে হবে না।
সর্বদা নিজের খেয়ালে যা খুশি করতে পারবেন।
দুঃখ,কষ্ট, রাগ, অভিমান থেকে অনেক দূরে থাকতে পারবেন।
আপনার এই ভালোবাসার মধ্যে কোন বাধা থাকবে না। কারণ, আপনি নিজেই এই ভালোবাসার সবচেয়ে বড় বাধা।
এই ভালোবাসার সুবিধা হল আপনার তাকে হারানোর কোন ভয় থাকবে না।
কারণ, আপনি এখনি তাকে হারিয়ে বসে আছেন।
এই ভালোবাসায় জড়িয়ে গিয়ে বহু মানুষ কবি, সাহিত্যিক, এবং বিখ্যাত লেখক হয়ে আছেন আমাদের এই পৃথিবীতে।
তারা ভালোবাসায় সাফল্য পায়নি ঠিকই কিন্তু তাদের মধ্যে গভীর ভালোবাসার অনুভূতি ছিল প্রবল।
তাদের কল্পনা শক্তির জন্য আজ আমরা অনেক ভালো ভালো হৃদয় কাঁদানো উপন্যাস পড়ে নিজেদেরই অনেক সময় চোখে জল এসে যায়।
এক তরফা ভালোবাসার অসুবিধা:
তাকে আপনার মন চাইলেও সহজে ভুলতে পারবেন না।
তার সাথে কিছু সময় কাটানোর জন্য কোন সুযোগ থাকবে না বাস্তব জীবনে।
কিন্তু আপনি সেটা আপনার কল্পনা শক্তির দ্বারা পুরণ করতে পারবেন। কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই।
এই ভালোবাসার সবচেয়ে অসুবিধা হলো আপনি তাকে আপনার মনের কথা কখনো বলতে পারবেন না। এবং তার সাথে গল্প করতে পারবেন না।
শুধু মাত্র তাকে চোখে দেখতে পাবেন এটুকুই যা।
হয়তো তাকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার মন চাইলেও আপনি তাকে নিয়ে যেতে পারবেন না।
আপনি দুঃখ পেলে কিংবা আনন্দিত হলে আপনার সেই দুঃখ কিংবা আনন্দিত হওয়ার ভাগিদার সে হবে না।
এই ভালোবাসায় তার কাছ থেকে কোন রকম সান্ত্বনা পাওয়ার আশা থাকবে না।
সারাটা জীবন তাকে নিরবেই ভালোবেসে যেতে হবে।







Post a Comment