ভাগ্য কাকে বলে? সত্যিই কি ভাগ্য বলে কিছু আছে?What is destiny? Is there really anything called destiny?

ভাগ্য কাকে বলে? সত্যিই কি ভাগ্য বলে কিছু আছে?


ভাগ্য কাকে বলে?

ভাগ্য বলতে কি বোঝায়?

বর্তমানে ভাগ্য কাকে বলে?

ভালো ভাগ্য কাকে বলে?

খারাপ ভাগ্য কাকে বলে?

চেষ্টা কাকে বলে? 

সত্যিই কি ভাগ্য বলে কিছু আছে?



এই ভাগ্য নিয়ে বহু মতবিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের মানুষের বিভিন্ন মতবাদ আছে ভাগ্য নিয়ে।



পৃথিবীতে কিছু সংখ্যক মানুষ যারা আজ সাকসেসফুল।

কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ সাকসেসফুল নয়। 


 যারা সাকসেসফুল তারা প্রকাশ্যে মানতে চায় না যে, ভাগ্য বলে কিছু আছে। 

আর যারা সাকসেসফুল নয়, তারা মনে করে সবটাই ভাগ্যের ব্যাপার। ভাগ্য ছাড়া পথ নেই।


ভাগ্য কাকে বলে?

ভাগ্য হল একটি অদৃশ্য বস্তু যা কখন, কোথায়, কিভাবে ঘটবে, তার ফল কি হবে, ভালো হবে না খারাপ হবে, আগের থেকে যার সমন্ধে কিছুই আয়ত্ত্ব করা সম্ভব নয়, তাকেই আমারা ভাগ্য বলে থাকি।  


বর্তমানে আমরা ভাগ্য বলতে কি বোঝায়?

বর্তমানে ভাগ্য বলতে বোঝায়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বা সামান্য চেষ্টায় যখন আমরা কিছু সম্পতি বা কোন বিরাট কিছু লাভ করাকে আমরা ভাগ্য বলে থাকি।


 ভাগ্য আসলে কি তাই?

আমার মতে বলে, ভাগ্য হল শুধু সম্পতি, সাফল্য পাওয়া কে বোঝায় না। ভাগ্য হল সেটাই যেগুলো মানুষের তৈরি নয়, বা মানুষের দ্বারা যেগুলো সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। কিন্তু সেগুলো আমরা খুব সহজেই পেয়ে গেছি বা পেয়ে থাকি। যেগুলোর মূল্য কোন টাকা দিয়েও পাওয়া যাবে না। 

যেমন, আলো, বাতাস,জল, খাবার, জীবন সঙ্গী, ভালো বন্ধু, ভালোবাসা, সুখ, শান্তি ইত্যাদি।


 মানুষের সবচেয়ে খারাপ অভ্যাস কি জানেন, আমরা সহজে যেটা পেয়ে যাই সেটা নিয়ে বেশি ভাবি না। কিন্তু সেটা যখন আমাদের থেকে অনেক দূরে চলে যায়, তখন তার জন্য আফসোস করি। 


এখনকার দিনে একজন ভালো জীবন সঙ্গী পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার। একজন ভালো বন্ধু পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার। একজন ভালো গুরু পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার,যেমন, স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ দেব কে পেয়েছিলেন, আর আমরা স্বামী বিবেকানন্দ কে পেয়েছি। এটাও কিন্তু আমাদের কাছে ভাগ্যের ব্যাপার। 


আমি বা আমরা কি পাবো সেটা বড় কথা নয়, আমারা যাদের সাহায্যে এগিয়ে যেতে পারবো। যাদের কিছু কথা অনুসরণ করে আমাদের জীবন কে অনেক সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারবো, তাদের কে পাওয়াটা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। 

যদি আমাদের দেশে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো সাহসী, বীর, বুদ্ধিমান মানুষ না পেতাম আর ওই রক্ত গরম করা স্লোগান যদি না শুনতাম, " তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দিব" তাহলে আমাদের ভাগ্যে কি ছিল সেটা বলা মুশকিল। 

আজকে আমরা ওই মানুষ গুলোকে পেয়েছিলাম বলে এখনও পর্যন্ত এতদূর এগোতে পেরেছি।


মানুষ আজ অনেক বেশি বুদ্ধিমান কিন্তু তার থেকেও বেশি সার্থপর। নিজেকে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করবো, কি ভাবে প্রচুর পরিমাণে টাকা রোজগার করবো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই নিয়েই ব্যস্ত থাকে। কিন্তু তাতে কি লাভ? যদি কোটি কোটি টাকা রোজগার করেও মনে শান্তি না পাওয়া যায়। সুখ না পাওয়া যায়।

হয়তো কিছু লোককে দেখানো যায়, যে আমার এই আছে, আমার ওই আছে। তার বেশি কিছু নয়। আপনি মারা যাবার পর সম্পতি নিয়েও যেতে পারবেন না। হয়তো আপনার সম্পতি আপনার পরিবার ভোগ করবে। কিন্তু সেটা তো আপনার পরিবারের সদস্যদের কাছে ভাগ্যের ব্যাপার হলো। কারণ তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আপনার সব সম্পতি পেয়ে যাবে। তাহলে এটা কি তাদের কাছে ভাগ্য নয়? তারা তো কোন পরিশ্রম করে নি, তারা কোন চেষ্টাও করে নি, তাহলে সব সম্পতি কেন পাবে? 


ভাগ্য বলতে শুধু মাত্র লটারি পাওয়াকে বোঝায় না। 



 আমরা নিজেরা যা করতে পারিনা, অপরের বা অন্য কোন বিষয়ের উপর যখন নির্ভর করতে হয়। তখন সেই বিষয় বা বস্তু গুলি হল আমাদের ভাগ্যের সহায়ক বস্তু। 

যেমন, এই পৃথিবীতে যা কিছু আমরা ব্যবহার করছি, এগুলো সবেই ভাগ্যের সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।

 উদাহরণ: আমরা একটি গাড়ি তৈরি করলাম। এটা সম্পূর্ণ নিজেদের চেষ্টায় করলাম। কিন্তু, গাড়ি তৈরির যে সকল যন্ত্রপাতি বা কাঁচামাল প্রয়োজন যেমন লোহা(আকরিক লোহা), ডিজেল(খনিজ তেল) এগুলো আমরা তৈরি করতে পারব না। তাই এগুলো ছাড়া আমরা গাড়ি তৈরির কথা কল্পনাও করতে পারি না। মানুষ যত বড়ই বুদ্ধিমান জীব হোক না কেন, এই পৃথিবী থেকে সাহায্য না নিয়ে কোন কাজেই করতে পারবে না।



 ভাগ্য+চেষ্টা=ফল। আমারা এটা সবাই জানি।

চেষ্টা কাকে বলে?

পরিশ্রমের মাধ্যমে সঠিক লক্ষ্যের দিকে যাওয়ার সময় প্রচুর চড়াই উতরাই কে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া কে চেষ্টা বলা যেতে পারে। যেমন, সঠিক ভাবে চেষ্টার ফলে যা আমরা পেয়ে যাই। সেটাকে চেষ্টার দ্বারা ফল বা ফলাফল বলা হয়। 


বেশিরভাগ সফল ব্যক্তিরা এই নিয়মে বিশ্বাসী। কিন্তু আমি বলবো, তাদের এই সাফল্যের পেছনে কোন না কোন ব্যক্তির হাত আছে বা এই পৃথিবী থেকে সে এমন কিছু অর্জন করেছে যে সাফল্যের পথ অনেক সহজ হয়েছে। কিংবা সে হঠাৎ করে এমন কিছু পেয়েছিল বা জানতে পেরেছিল যার জন্য সেই থেকে আজ সাকসেসফুল।


 ফল বা ফলাফল কাকে বলে?


ভাগ্য+ চেষ্টা এই দুই একত্রে মিলিত হয়ে যে রুপ নেয় তাকেই ফল বা ফলাফল বলা হয়।


ভাগ্য কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

ভাল ভাগ্য এবং খারাপ ভাগ্য।


ভাল ভাগ্য কাকে বলে?


পরিশ্রম ও চেষ্টার মাধ্যমে আমরা কিছু পাওয়ার আশা করে থাকি, বা ফলাফল এর আশা করে থাকি আর সেই আশার থেকেও যখন বেশি কিছু পেয়ে যাই সেটাকে তখন আমরা ভাল ভাগ্য বলে থাকি বা ভাগ্য ভালো বলা হয়ে থাকে।


উদাহরণ: মাটির নিচে কি আছে বা কি থাকতে পারে আমরা কেউ জানি না। কোন একটি দরকারে মাটি খোড়ার কাজের সময় যদি মাটির নিচে কয়লা, লৌহ আকরিক, হীরা, জীবের জীবাশ্ম খনিজসম্পদ বের হয় তখন এটাকে ভাল ভাগ্য বলা উচিত। কারণ প্রথমে আমরা কেউ জানতাম না যে, মাটির তলায় এতো মূল্যবান সম্পদ আছে। এখন কয়লা কে কালো হীরা বলা হয়। খনিজ তেল, এটাও একটি প্রকৃতির সম্পদ।


 এই খনিজ সম্পদ যে সব দেশে বেশি মাত্রায় আছে তারাই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে ধনী দেশ বলে পরিচিতি লাভ করেছে। কারণ এগুলো মানুষ এখনও পর্যন্ত তৈরি করতে পারিনি। এই সব জিনিস পাওয়াকে আপনি কি বলবেন? প্রকৃতির দান বলবেন। আর প্রকৃতি শুধু শুধু দান করে গেল। এগুলো তৈরি হতে সময় লেগেছে প্রায় লক্ষ্য লক্ষ্য বছর কিংবা তার চেয়েও বেশি। শুধু মাত্র মানুষের প্রয়োজনে লাগবে বলে। 


ব্যাখ্যা, এখানে ভাগ্য আগের থেকেই অদৃশ্য ছিল+

 আমরা শুধু মাত্র নিজেদের প্রয়োজনে জন্য মাটি খোড়ার কাজ করে যাচ্ছিলাম বা চেষ্টা করে ছিলাম=

 তার ফলে আমাদের যা পাওয়ার আশা ছিল। তার থেকে অনেক গুন বেশি আমরা পেয়েছি। যেমন, পৃথিবীতে যত ধরনের খনিজ সম্পদ থেকে শুরু করে হীরা, সোনা, কয়লা, খনিজ তেল, চুনী,পান্না, ইত্যাদি ইত্যাদি। 

এই গুলো কেউ চেষ্টা করে তৈরি করতে পারেনি আর আমরা পাবো বলে কেউ আশা করেনি। কিন্তু আজ আমরা সেটা পেয়েছি। 

এই সম্পদ যে দেশে যত বেশি আছে সেই দেশ আজকে অথনৈতিক দিক দিয়ে ততবেশি উন্নত হয়েছে।

খারাপ ভাগ্য কাকে বলে? 

 আমরা কোন কিছু কাজের উপর পুরোপুরি চেষ্টা ও পরিশ্রমের পরেও শেষ মুহূর্তে যখন ব্যর্থ হয়ে যাই তখন সেটাকে খারাপ ভাগ্য বলে থাকি।

উদাহরণ: চন্দ্র যান টু অভিযান। শেষ পর্যন্ত সামান্য কারণের জন্য ব্যর্থ হয়। আমরা সবাই অনেক আশা নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলাম কি ভাবে বিক্রম ল্যান্ডার চাঁদের পৃষ্ঠে নামে দেখার জন্য। কিন্তু কোন কারনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক চেষ্টার ফলেও আর তখনকার মতো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

এর রকম অনেক ঘটনা আছে যে গুলো মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে চলার পথে ঘটে থাকে।

অনেকেই আছে যারা রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। লটারির টিকিট কেটে।



আবার অনেকেই আছে যারা কোটি পতি ছিল তারা আজ ভিখারী হয়ে গেছে।


আমরা যদি ভালো করে নজর দিয়ে দেখি তাহলে এই পৃথিবীতে যা কিছু ভালো বা খারাপ আবিষ্কার হয়েছে তার মধ্যে ভাগ্যের ব্যাপার কিছু হলেও আছে।

যেমন, স্যার আইজ্যাক নিউটন সে যদি না আপেল গাছের তলায় আসত আজকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সুত্র এবং উৎস সম্পর্কে জানতে পারতাম না।  


কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক আজকে এই পৃথিবী সম্পর্কে কতটুকুই বা জানতে পেরেছি আমরা। এই পৃথিবীতে মাটির নিচে কি আছে বা সমুদ্রের তলদেশের ব্যাপারে এখনও অনেক জানতে বাকি আছে।


 যাইহোক, এখানে মূল বিষয় ভাগ্য নিয়ে। সেটাই আলোচনা করা উচিত। 

ভাগ্যের সাথে অনেক কিছু বিষয় জড়িয়ে আছে। যেমন, জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ এগুলো আপনার বা আমার হাতে নেই। কার কখন জন্ম হবে, ডাক্তার রাও অনেক সময় বলতে পারে না। তাদেরকেও দেওয়া তারিখের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেনি অনেক শিশু।

মৃত্যুর ব্যাপারে কেউ আজ পর্যন্ত বলতে পারেন নি" যে কার কখন, কি ভাবে মৃত্যু হবে। ভাগ্য না থাকলে, আজ প্রতিটি মানুষ ১০০ বছর করে বাঁচতে পারত। কেউ জোর করে বলতে পারবেনা যে, আমি এখনও ২০ বছর জীবন ধারণ করতে পারব এই পৃথিবীতে। আমাদের দেশে রোজ কত মানুষের অপঘাতে মৃত্যু হয়। তার কোন হিসাব নেই।



বিবাহ, এটিও আমাদের হাতে নেই। চাইলে হয়তো জোর করে বিবাহ করা যায় কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা যায় না। অনেক সাকসেসফুল ব্যক্তিকে দেখেছি যারা বিয়ে করে নি বা কোন কারনে হয়ে উঠে নি। আবার অনেক সাকসেসফুল ব্যক্তি বিয়ে করার পরেও বিবাহিত জীবনে সুখী হতে পারে নি।



চেষ্টা করলে সাফল্য পাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু সেই সাফল্যে তখনও অনেক কিছুর ঘাটতি দেখা যায়। শুধু মাত্র চেষ্টার দ্বারা জীবনে চুড়ান্ত সাফল্য লাভ করা যায় না এবং চেষ্টা করে আপনি সিঁড়ির শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন না।যদি না ভাগ্য আপনার সাথে না থাকে। জীবনের থেকে কিছু মূল্যবান জিনিস হারিয়ে যায়। যেগুলো শত চেষ্টা করেও আর ফিরে পাওয়া যায় না। 


সত্যিই জীবনে সুখী হতে চাইলে, কাজ করে যান, চেষ্টা চালিয়ে যান কিন্তু অতিরিক্ত ফলের আশা না করাই ভালো। ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকা উচিত নয়। চেষ্টা করলে কিছু হলেও পাবেন। তাই সর্বদা নিজেকে কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখুন। আপনার ভাগ্যে যা আছে তা আপনি ঠিকই পাবেন। সেটা ভালো অথবা মন্দ যাই হোক না কেন।


আজ পৃথিবীর সমস্ত সাফল্য বান ব্যক্তিরা বিশ্বাস করে যে, খারাপ সময় বলে কিছু আছে। এই খারাপ সময় সবার জীবনেই আসে। আর যখন আসে তখন বুঝিয়ে দিয়ে যায় ভাগ্য কাকে বলে।


এখনও যদি কারো জীবনে চলার পথে খারাপ সময় না এসে থাকে। তাহলে এখন থেকে প্রস্তুতি নিন, কারণ বিপদ কখন, কোন দিক দিয়ে আসবে বলা মুশকিল। অবশ্য বিপদ আসলেও তাকে আটকানো যাবে না। তার যা কাজ সে ঠিক করে যাবেই। তার ফল স্বরূপ কিছু নিয়ে যাবে, অথবা কিছু দিয়ে যাবে,,,,,,,,,,


সহজে কোটিপতি হওয়ার সহজ উপায় কি?






Post a Comment

Previous Post Next Post