নেশা কি? নেশা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি? What is intoxication? What is the way to get rid of intoxication?

নেশা কাকে বলে? নেশা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি?

নেশা কাকে বলে?

আমাদের মন বেশি করে যা করতে চায়, যা করলে আমাদের মনে শান্তি মেলে, মস্তিষ্কে আরাম ফিল করি।যাহা সহজেই ছাড়তে পারিনা বা ভুলতে পারি না এবং বার বার আমাদের মস্তিষ্ক সেটাই করার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠে। সেটা যতক্ষণ না পর্যন্ত করছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না খাচ্ছি, বা পান করছি " আমাদের মনে তৃপ্তি মেটে না।তাকেই সাধারণত নেশা বলা হয়।




নেশা অনেক ধরনের হয়ে থাকে' যেমন,,,

 সিগারেটের নেশা, মদের নেশা, গাঁজার নেশা, ইত্যাদি। এই নেশা গুলো খাবার, বা পান করার দ্বারা হয়ে থাকে।


কিছু করার জন্য নেশা' যেমন,,,

গেম খেলার নেশা, জুয়া খেলার নেশা,ফটো তোলার নেশা, বাগান করার নেশা, টাকার নেশা, যৌন নেশা, শপিংয়ের নেশা, বই পড়ার নেশা ইত্যাদি।


আবার কিছু দেখার নেশা আছে ' যেমন,,

সিরিয়ালের নেশা, বাইরে বেড়ানোর নেশা বা পর্যটকদের নেশা, সোশ্যাল মিডিয়ার নেশা, পর্ণগ্রাফির নেশা ইত্যাদি।

এই গুলো সবেই নেশার মধ্যে পড়ে' তাই একবার ভুল করে এইসব নেশা গুলোতে জড়িয়ে গেলে।

এখান থেকে সহজে বেরোনো যায় না।


এর মধ্যে কতক গুলো ভালো নেশা আছে যেমন,,,

পর্যটকদের নেশা, বই পড়ার নেশা, বাগান তৈরির নেশা, ফটোগ্রাফির নেশা ইত্যাদি।



নেশাগ্রস্ত হলে মানুষের জীবনে কি প্রভাব পড়ে।


মানুষের জীবনে স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে যায়। কিছু অস্বাভাবিক আচরন লক্ষ্য করা যায়। একরোখা, জেদী টাইপের হয়ে হয়ে উঠে। কারোর কথার কোন গুরুত্ব দেয় না। নিজের মধ্যে একটা নতুন দুনিয়া তৈরি করে ফেলে, বাস্তব জীবনের সাথে যার কোন মিল থাকে না। জীবনের আসল কাজ গুলো থেকে দূরে সরে যেতে থাকে ধীরে ধীরে। ফলে সংসারে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। অশান্তি বাড়তে থাকে, শেষ পর্যন্ত চরম পর্যায়ে চলে যায়। ফলে, তার তো জীবন শেষ হয়। সাথে জড়িয়ে পরিবারের সদস্যদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। 


কয়েকটি বিপদজনক নেশার ফলাফল ও তার থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়।


(ক) জুয়ার নেশা: 


পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় এবং বিপদজনক নেশা হল, জুয়ার নেশা। কারণ এই নেশায় মানুষ রাজা থেকে ভিখারী পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। এর কোন লিমিট থাকে না। সব কিছু সর্বশান্ত হয়ে যেতে পারে।

 এর ভাল উদাহরণ আমরা পাই, মহাভারতের শকুনি মামা আর পান্ডবদের পাশা খেলা থেকে। শকুনি মামার পাশার চালে পান্ডব রা সর্বশান্ত হয়ে, শেষ পর্যন্ত নির্দোষ দ্রোপদী কে' পাশা খেলায় বাজি রাখতে হয়েছিল পান্ডবদের। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। তারা নির্মম ভাবে পাশা খেলায় হেরে, সবকিছু বিসর্জন দিয়ে' তাদের কে ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল।

আর আজকের দিনে জুয়া তে প্রচুর পরিমাণে অর্থ হেরে, কোন কোন মানুষ আত্মহত্যাও করেছে।


জুয়ার নেশা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়। 


(১) প্রথমে জুয়া রিলেটিভ যে সকল ব্যক্তিরা, বা বন্ধুরা আছে তাদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে।


(২) যে সময়ে জুয়া খেলতে যান, সেই সময়টাকে পার করার জন্য অন্য কোন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকুন। যে কাজ করলে আপনার মন ভালো হয়ে উঠে। সেই সব কাজে ব্যস্ত থাকুন।


(৩) আপনাকে সবসময় মাথায় রাখতে হবে, জুয়া খেলার খারাপ দিক গুলোকে। জুয়া খেলার জন্য কত মানুষের জীবনে ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে ইত্যাদি। বিষয় নিয়ে পারেন তো আপনি আপনার বন্ধুদের বোঝান । তাহলে দেখবেন আপনার কাজ অনেক টা সহজ হয়ে উঠবে। 


(৪) ভুলেও জুয়া তে যা হেরেছেন তা ফিরে পাওয়ার জন্য , জুয়ার আসরে অংশ গ্রহণ করতে যাবেন না।

এগুলো ফলো করার পরেও যদি কোনো কাজ না হয়। তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।


(খ) মদ, গাঁজা, হেরোইন,বিড়ি, সিগারেট ইত্যাদি:


 নেশার কতটা খারাপ প্রভাব পড়ে আমাদের জীবনে, আমাদের সমাজে, আমাদের পরিবারে। আমাদের কারোরই জানতে বাকি নেই। 

মদের নেশায় মানুষ বুদ হয়ে কি করে, কি না করে, কোন হুঁশ থাকে না। আজকের দিনে ইয়াং জেনারেশন বেশি করে এই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। যার ফলে প্রতিদিন রোড দূর্ঘটনায় কোন না কোন ছেলেমেয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। অপরদিকে ধর্ষণ এর মতো ঘটনা ঘটাতে দুবার ভাবে না।

আজকাল নিউজ পেপার খুললেই দেখা যায় ধর্ষণের ঘটনাই বেশি থাকে। 


আজ আমরা কোথা থেকে' কোথায় এসে যে পৌঁছে গেছি " আমরা নিজেরাই জানি না।


এই নেশা গুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু টিপস ফলো করতে পারেন,,,

আপনাদের এখন যা করতে হবে: তিনদিন, মানে ৭২ ঘন্টার মধ্যে তিন বার নেশা করা চলবে না। দুই বার নেশা করতে পরেন। 

পরের তিন দিনে, একবার নেশা করুন ৭২ ঘন্টার মধ্যে।


তারপর আবার পরের তিন দিনের শেষ দিনে একবার নেশা করুন। 

এরপর চার দিনের শেষে একবার নেশা করুন।

তারপর আবার পাঁচ দিনের শেষে একবার নেশা করুন। এই ভাবে ছয়দিন, সাতদিন, আটদিন, নয়দিন, ছাড়া ছাড়া একবার নেশা নেশা করুন। 

যেদিন পনের দিনের ব্যবধানে এগিয়ে যাবেন। তখন আর এভাবে না করলেও চলবে। তখন আপনি নেশা থেকে অনেক দূরে থাকবেন। 

আপনি চাইলে মাসে একবার খেতে পারেন, আবার নাও খেতে পারেন। আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে, আপনি আগের থেকে অনেক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছেন।


তবে এই কথাটি সবসময় মাথায় রাখতে হবে যে, যত কষ্টেই হোক কখনো ৭২ ঘন্টার মধ্যে তিন বার মদ, বিড়ি, সিগারেট, গাঁজা, ইত্যাদি নেশা জাতীয় দ্রব্য খাবেন না।

যারা মাঝে মধ্যে খান তাদের কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু যারা প্রতিদিন খায় অসুবিধা তাদের কে নিয়ে।


 এছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে যেমন, 

যে সকল বন্ধুদের নিয়ে এতো দিন নেশা করেছেন। তাদের কে সরাসরি বলতে হবে, যে আমি এখন নেশা করা ছেড়ে দিয়েছি" পারলে তোরাও ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা কর।  

যে সকল আড্ডার জায়গায় এই সব নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করা হয়। সেখানে আর যাবেন না। 


কোন কাজ না থাকলে ভালো বই পড়ুন। শিক্ষা মূলক জ্ঞান মূলক বই পড়ুন। 


আজে বাজে সিনেমা, সিরিয়াল দেখে মাইন্ড টাকে অকেজো করবেন না। 


আর বিশেষ করে যে যে সময়ে নেশা করতেন। সেই টাইম গুলোকে একটু বেশি খেয়াল রাখবেন। সেই সময়ে নিজেকে অন্য কোন কাজ নিয়ে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন। 

কারণ এই টাইমে আপনার মস্তিষ্ক বার, বার নেশা করার জন্য আপনার মনকে উত্তেজিত করবে। 

যদি এই সময়টাকে কোন ভাবে পার করতে পারেন। তাহলে এর থেকে বেরোনো অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।


আজ এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

বাকি যে বিষয়গুলো রইল, সেগুলো এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই ওগুলো নিয়ে আলোচনা করলাম না। 

যদি কারোর প্রয়োজন হয়ে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন প্লিজ। 

আর আমার এই পোস্ট গুলো পড়ে যদি কারো কোন উপকারে আসে, তাহলে জানব আমার লেখা সার্থক হয়েছে।



Post a Comment

Previous Post Next Post