আমাদের জীবনে দূঃখ পাওয়ার অনেক কারন আছে।
প্রথমে আমরা জানবো কি কি কারণের জন্য আমরা দুঃখ, কষ্ট পাই এবং এর থেকে কি ভাবে রেহাই পেতে পারি।
সঠিক প্রেমিক/ প্রেমিকা নির্বাচন করতে না পারা।
বেশিরভাগ কমবয়সী ছেলে মেয়েরা সিনেমার নায়ক নায়িকাদের মতো নিজেদের কে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে উঠে। এক কথায় তাঁরা স্বপ্নের জগতে প্রবেশ করে, বাস্তবে ফিরেও তাকায় না। এদের প্রেমটি হল এক ধরনের আকর্ষণ, ড্রেস, স্টাইল, ফ্যাশন, এই সব দেখে বেশিরভাগ ছেলে মেয়েরা প্রেমে পড়ে যায়। একবারও এরা ভেবে দেখে না যে, এই ড্রেস,স্টাইল,এর মধ্যে থাকা ব্যক্তিটির মনটা কি রকম,
ভালবাসো' সঠিক মানুষ দেখে, পোশাক এবং অর্থ দেখে নয়। নাহলে, পরবর্তী সময়ে ঠকতে পারো।
সহজেই কাউকে বিশ্বাস করে নেওয়া।
দুঃখ পাওয়ার আর একটি কারণ, সহজেই কাউকে বিশ্বাস করে নেওয়া।
ভালো মনের মানুষ গুলোই বেশি দুঃখ পেয়ে থাকে। কারণ তারা সহজেই মানুষকে আপন করে নেয়, বিশ্বাস করে ফেলে। তাই জীবনে এরাই বেশি দুঃখ কষ্ট পেয়ে থাকে। বিশ্বাস' সবাই কে করা উচিত নয়।
বিশ্বাস' এমন একটি বস্তু' যেটাকে চোখে দেখা যায় না,
অনুভব করা যায়।
আমি মনে করি, যাকে চোখ বুজে ভরসা করা যায়, যার প্রতি আস্থা রাখা যায়, যার উপর নির্ভর করে সব কিছু ছেড়ে যাওয়া যায় এবং যাহাকে কোটি কোটি টাকার বিনিময়েও কেনা সম্ভব নয়।
অল্পে সন্তুষ্ট না হওয়ায় জন্য দুঃখ পাই।
মানুষের জীবনে চাওয়া পাওয়ার হিসেব নেই। আরো চাই, আবার চাই। এই ভাবে চলতে চলতে এক সময় মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যখন মনের মতো সবকিছু না পায়, তখন মানুষ দুঃখ প্রকাশ করে, আর ভগবানকে দোষারোপ করে।
চেষ্টা করে যান, ফলের আশা করবেন না, চেষ্টার ফল অবশ্যই পাবেন। যদি সৎ ভাবে চেষ্টা করে যান তাহলে।
ভালবাসো, কিন্তু তোমার সবটা দিয়ে নয়।
যতটা ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য, ততটাই ভালবাসো। নিজেকে একেবারেই শূন্য হতে দিওনা। কিছু হলেও নিজের জন্য রেখে দাও।
কারণ, যখনি তোমার জীবনের সবকিছু তাকে বিলিয়ে দিবে, তখন থেকে' তার কাছে তুমি ধীরে ধীরে মূল্যহীন হয়ে উঠবে। তখন তোমাকে, তার কথায় চলতে হবে। কারণ, তোমার সব দূর্বলতা গুলো সে জেনে গেছে।
না, বলতে শিখুন।
সোজা সরল হলে, মানুষ আপনাকে পেয়ে বসবে। ইচ্ছে করেই আপনাকে দিয়ে' তার কাজ করিয়ে নিবে। কারণ সে জানে, আপনি সহজে না করতে পারবেন না। তাই না বলতে শিখুন।
চাণক্য পন্ডিত এর একটি উদাহরণ দিয়েছেন যে, জঙ্গলে কাঠুরিয়া রা আগে সোজা সরল গাছগুলো কে কাটে' আর বাঁকা গাছগুলোকে এড়িয়ে য়ায়।
মানুষ সবচেয়ে বেশি দুঃখ পায় কখন জানুন।
যখন তার সবচেয়ে কাছের মানুষটি ' বাকি সব মানুষদের মতোই তাকে ভুল বুঝে, অন্যের কথায় বিশ্বাস করে, দোষারোপ করে।
তখন মানুষ সবচেয়ে বেশি দুঃখ পায়। কারণ, ভালোবাসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় না। নিরবে সহ্য করে নিতে হয়।
কাউকে অপমানিত করা।
আপনি যদি কাউকে কোন বিষয় নিয়ে অপমান করে থাকেন। তাহলে আপনার কারো অপমান সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
কারণ আপনাকে কেউ না কেউ একেই ভাবে অপমান করতে পারে। তখন আপনি সহ্য করতে পারবেন না।
যদি তুমি সুখী হতে চাও '' এই কথা গুলো মেনে চলুন।
খারাপ কিছু না দেখার, খারাপ কিছু না করার, খারাপ কিছু না বলার, খারাপ কিছু না ভাবার। আমরা নিজেরাই অনেক সময় ভুলে যাই। কখন কি করতে হবে,কখন কি বলতে হয়। আর এই ভুল গুলো করে থাকি বলেই, আমাদের কে অনেক সময় অপমানিত হতে হয়, দুঃখ পেতে হয়।
কাউকে খারাপ কিছু বলার আগে'' আমাদের ভাবা উচিৎ , সে যদি আমাকে এভাবে বলতো তাহলে, আমার কেমন লাগত।
কোন বিষয় কে খারাপ ভাবার আগে, আমাদের ভালো করে সমস্ত দিক ভেবে দেখা উচিত। তারপর সিদ্ধান্ত নিন। সে কতটা খারাপ বা কতটা দোষী।
মূখ লোকেদের সাথে তর্ক করতে যেও না।
আপনি যদি মূর্খদের সাথে তর্কে জড়িয়ে যায়, তাহলে তর্কে জিততে পারবেন না। বরং অপমানিত হয়ে যাবেন। কারণ যুক্তি দিয়ে তর্ক করতে তারা জানে না।
মায়ার সাথে জড়িয়ে যাবেন না।
আমাদের দুঃখ পাওয়ার এটিও একটি কারণ। মায়া, মমতা,করুনা, এগুলো থেকে একটু দূরে থাকাই ভালো। এগুলো যত আপনাকে চেপে ধরবে, আপনার দুঃখ পাওয়ার পথ তত বেশি বড়ো হবে।
মনের প্রতি নিয়ন্ত্রন রাখতে হবে।
আমাদের মন যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, মনের প্রতি নিয়ন্ত্রন যদি না থাকে, তাহলে আমরা যখন তখন দুঃখ পেতে পারি। সামান্য কারণে দুঃখ পেতে পারি।
তাই মনকে আগে শক্তিশালী করতে হবে, যাহাতে হাজার কষ্টের মাঝেও দুর্বল হয়ে না পড়ি,,,
কতো গুলো কথা আমাদের সব সময় মনে রাখা উচিত- যেমন,, পরচর্চা, সন্দেহ, রাগ, কাউকে আঘাত করা, ইত্যাদি করা আমাদের উচিত নয়।
নিজের মনের প্রতি নিয়ন্ত্রন আনা দরকার যেমন, কাম,ক্রোধ, লোভ এগুলিতে নিয়ন্ত্রন না করতে পারলে জীবন ধারণে বহু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
কাজের প্রতি সততা রাখা উচিত এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস।
আমরা জানি একদিন আমাদের মৃত্যু হবেই, তবুও আমরা শোক করে থাকি। কিছু জিনিষ আমাদের জীবনে চলার পথে মেনে নিতেই হবে। যে কেউ আটকাতে পারবে না।
গীতার সারাংশ বলা হয়েছে,,,
আমাদের দুঃখ করে কোন লাভ নেই" কারণ আমাদের হারাবার কিছু নেই। আমরা খালি হাতে এসেছি আবার খালি হাতে ফিরে যাবো। আমরা পৃথিবীতে এসেছি সব কিছু পাওয়ার জন্য। আজ আমার যেটা থাকবে কাল সেটা অন্য কারোর হয়ে যাবে। তাই যা হচ্ছে সেটা ভালোই হচ্ছে, যা হবে তা ভালোই হবে,,,,,,,,
পরিবর্তন কে মেনে নেওয়া আমাদের বুদ্ধিমানের কাজ,,,,,,
ভাগ্য কাকে বলে? সত্যিই কি ভাগ্য বলে কিছু আছে?


Post a Comment