সাফল্য না পাওয়া মানে, জীবন শেষ নয়,পাট ২।Not having success does not mean the end of life.

 আজ আমি আপনাদের এমন কিছু জানতে যাচ্ছি, যা জানলে কখনও নিজেকে দূর্বল মনে হবে না। আপনার আত্মবিশ্বাস বহু গুণ বেড়ে যাবে।


আমরা যখন সাফল্য পাই না। যখন আমরা হেরে যাই। তখন মানসিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়ি। তারপর হাল ছেড়ে দি। আমরা ভুল টা কিন্তু এখানেই করি। 

যদি আপনি আপনার স্বপ্নকে ছেড়ে দেন। তাহলে আপনার স্বপ্ন একদিন আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ ভুলে যায়, তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে। লাইফের কিছু প্রবলেম এর কথা ভেবে। 

আপনি যদি জীবনে অনেক উপরে উঠতে চান। সাফল্য পেতে চান। তাহলে জীবনে অনেক বাধার মুখে পড়তে হবে।কোন টাতে হয়তো হেরেও যাবেন। কিন্তু হেরেও আবার জিততে হবে। 

আমার ট্যালেন্ট নেই। আমার টাকা নেই। আমার সময় নেই। আমার অনেক প্রবলেম। এই সব কথা বলে নিজেকে সান্তনা দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।  


আপনার থেকেও যে ব্যক্তিরা বহুগুণ কষ্টের মধ্যেও আজ সাফল্য পেয়েছেন তাদের কথাই বলছি,,,,,,,


কর্নেল স্যান্ডার্স : যার পাঁচ বছর বয়সে বাবা মারা যায়। তেরো বছর বয়সে ঘোড়ার গাড়ি রং করার কাজ করে।সতের বছর বয়সে চারটি কাজের জন্য আবেদন করে। কিন্তু সব গুলিতে রিজেক্ট হয়ে যায়। আঠারো বছর বয়সে বিয়ে করেন এবং উনিশ বছর বয়সে বাবা হয়ে যান। কাজ করতেন তখন বাসের কন্ডাক্টার হয়ে। আর্মিতে যাবার জন্য এপ্লাই করে। সেখানেও রিজেক্ট হয়ে যান। ইন্সুরেন্স বিমা কাজ ও ফেল হয়ে যায়। 

কুড়ি বছর বয়সে ডিভোস হয়ে যায়। তারপরেও অনেক

ব্যবসা শুরু করেন। কোনটাতেই সাকসেস আসে নি।

 তার লাইফের প্রবলেম এখানেই শেষ হয়ে যায় নি। ১০০০টি রেস্টুরেন্ট এ কাজের জন্য এপ্লাই করেন কিন্তু সেগুলো সব রিজেক্ট আসে।

এতোবার ব্যথ হবার পরেও তিনি হার মানেনি। 

৬৫ বছর বয়সে শুরু করেন নিজের কোম্পানি । যখন অন্যরা পেনশনের টাকায় জীবন কাটানোর কথা ভাবেন। তখন তিনি আর একবার ব্যবসার কথা ভাবেন। এবার তিনি সফল হন।

 ক্রিয়েট করে ফেলেন KFC যার ব্রান্ড এখন ১১৮টি দেশে ছড়িয়ে আছে। 

এবার বলা যাক জ্যাক মা কে নিয়ে,


আলিবাবা ডট কম এর নাম শুনেননি এমন কম লোকই আছেন। জ্যাক মাই হলেন আলিবাবা এক্সপ্রেস এর ফাউন্ডার।চাইনার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির লিস্টে তার নাম আছে। কিন্তু এর জীবনেও কম বাধা আসেনি। প্রাইমারি স্কুলে দুই বার ফেল। মিডিল স্কুলে তিন বার ফেল। এমনকি কলেজ এন্টাস ও দুই বার ফেল হয়েছে। একবার ভাবুন শুধু কলেজ ডিগ্ৰি পেতে গিয়ে কতবার ফেল হয়েছে। তবুও হার মানেনি।হাভাড ইউনিভার্সিটিতে দশ বার পড়ার জন্য এপ্লাই করে ছিলেন। কিন্তু একবার নয়, দশ বারেই তিনি রিজেক্ট হয়েছিলেন। গ্যাজুযেশন করার পরে ৩০ টি কাজের জন্য এপ্লাই করে ছিলেন। সেখানেও তাকে রিজেক্ট করা হয় । এই বলে যে, you are not good. 


একবার KFC তে কাজের জন্য ২৪ জন এপ্লাই করে ছিলো। সেখানে ২৩ জন কে নেওয়া হয় শুধু মাত্র একজন অর্থাৎ জ্যাকমা কে রিজেক্ট করা হয়।

একবার ভাবুন লাইফে কোনদিন এতোবার ব্যথ হয়েছেন। এতবার ব্যথ হবার পরও তিনি হার মানে নি। তিনি যখন ক্রিয়েট করেন তার ফাস্ট কোম্পানি।তখন তিন বছরে কোন প্রফিট করতে পারেন নি। তবুও হাল ছেড়ে দেয় নি । তাই তিনি আজকে এতদুর উঠতে পেরেছেন। এখন বলুন জ্যাকমার লাইফের থেকে কি আপনার লাইফ বেশি কঠিন। না বেশি কষ্টের।

ঠিক আছে জ্যাক মা কে বাদ দিলাম।

এবার যার কথা বলবো তিনি একজন মহিলা। তিনি এতটাই গরীব ছিলেন যে, ঠিক মতো করে জীবন কাটানোর জন্য টাকা ছিল না। বিবাহিত জীবনে তাদের একটি সন্তান হয়। কিন্তু তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। তখন তিনি বড় রকমের মানসিক আঘাত পান।

সন্তানকে পালন করার পাশাপাশি কিছু বই লিখতেন। লাইফে কিছু আলাদা করার জন্য ইসট্রাগল করতেন। যখন তার বই লিখা কমপ্লিট হয়। তখন আলাদা আলাদা পাব্লিসার তার বই টি পাবলিশ করতে রিজেক্ট করে দেয়। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। আর এখন ইনি আছেন ইংল্যান্ডের ধনী মহিলা ব্যক্তির লিস্টে। তার লেখা বই একটি নয় ৭৩টি ভাষায় প্রকাশ করা হয়। ৪০০ মিলিওনিয়ার ডলারের বেশি টাকা রোজগার করেন। এই একটি বই থেকে। তার একটি মুভিতে ৪৭৬মিলিয়ন ডলার টিকিটের সেল হয় এক সপ্তাহে।


ইনিই সেই বিখ্যাত "হ্যারিপটার" বইয়ের রচয়িতা জে কে রোলিং।

এবার আসি শাহরুখ খান এর জীবন কাহিনী নিয়ে।

তার লাইফেও খুব কষ্টের মধ্যে ছিল। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয়। ১৬ বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। লাইফের ট্রাগল তখন থেকে সে বুঝে যায়। স্কুল লাইফে সে যখন তার ড্রীম , তার ট্রিচারকে বলে তখন তার ট্রিচার বলে, your dreem is very ungrating।

 একবার ভাবুন আপনার ট্রিচার যদি আপনাকে এরকম কথা বলে। তখন আপনার আত্মবিশ্বাস কোথায় যাবে। 

যখন শাহরুখ খান মুম্বাই চলে আসে। তখন তার এক সময় টাকার অভাবে রুমমেট পে করতে পারে নি। মুম্বাই এর মতো শহরে তার কাছে ২০টাকা ছিল। অনেক সময় ট্রেশনে রাত কাটাতে হয়েছে। 


টিকে থাকার জন্য তার ক্যামেরাটা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল।

 আর এখন ইনি ওয়ার্ল্ড ফ্রেমাস এক্টার। এই সকল বাধার মুখে পড়েও হার মানেনি। হয়ে উঠেছেন বলিউডের কিং খান। আর কলকাতা নাইট রাইডার্স এর মালিক।


এরপর যার কথা বলবো। তার জীবন কাহিনী শুনলে আপনিও বলবেন,। জীবনে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।

আমি নিক ভুজিসিক এর কথা বলছি। 

যার জন্ম থেকে হাত ও পা কোন টাই নেই। তার জন্য সে অনেক সমস্যার সামনে পড়েতে হয। বেঁচে থাকা তার পক্ষে এতোটা কষ্টের হয়ে পড়ে ছিল যে। 

যখন তার বয়স মাত্র দশ বছর তখন সে বাধ্য হয়ে আত্মহত্যা করতে যায়। কিন্তু কোন কারনে তার আত্মহত্যা করা হয়ে উঠেনি। তার জন্য তিনি God কে thank জানায়। এবং নিজের মনে একটা ইচ্ছাশক্তি নিয়ে আসে। আর প্রতিজ্ঞা করে।


যে আমি এভাবেই কিছু করে দেখাবো। তিনি করতেও পেরেছেন। আজ ইনি ওয়ার্ল্ড ফ্রেমাস মোটিভেশন স্পিকার। যার হাত,পা কোনটাই নেই। এছাড়া তিনি একজন লেখক, সঙ্গীতকার, স্পিকার, এনার মতে if you can't get a miracle become one ।

আমরা আমাদের লাইফে সামান্য প্রবলেম গুলোকে দেখে পিছিয়ে পড়ি। যার জন্য সফলতাও দরজা পর্যন্ত এসে পিছিয়ে যায়। প্রবলেম কতটা বড়ো, এটা না ভেবে। প্রবলেম এ সলিউশন কি হতে পারে সেটা ভাবুন। জীবনে অনেক ছোট বড় সমস্যা আসবে। অনেক বার হেরে যাবেন। অনেক বার পড়ে যাবেন। অনেক বার ব্যথতা আসবে। তার জন্য থেমে না থেকে, সেই ব্যথতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলুন।

সাকসেসফুল হওয়া যদি এতটাই সহজ হতো। তাহলে সবাই সাকসেস হতো। সাকসেস তারাই হয়েছে। যারা জীবনের সাথে সংর্ঘষ করেছে। 

তাই হার না মেনে আবার চেষ্টা করুন। সফলতা আপনার সামনে ধরা দেবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post