মন কি? মন কি ভাবে কাজ করে?What is the mind? How does the mind work?

মন কি?

মন কি ভাবে কাজ করে?

সচেতন মন কি?

অবচেতন মন কি?

সত্যিই কি মন বলে কিছু আছে নাকি সবটাই মস্তিষ্কের কেরামতি?

আজ আমি এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি, যে বিষয় টি নিয়ে বহু মতবিরোধ আছে।
আর এর সঠিক ব্যাখ্যা বিজ্ঞান এখনও পর্যন্ত দিতে পারে নি।


মন কি?


মন নিয়ে প্রচীনকাল থেকে গবেষনা চালিয়ে এসেছে বহু মানুষ জন। এবং তারা এটাকে বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সঠিক ভাবে বলা হয়নি মন কাকে বলে।
আমি আপনাদের সহজ উপায়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি;
মন কি এবং কিভাবে তৈরি হয় আমাদের মধ্যে......
আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় এটা সবাই জানি কিন্তু আমাদের আর একটি ইন্দ্রিয় আছে সেটা হলো ব্রেন। আর এটা হলো আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।আমরা আমাদের চারপাশে যা দেখি যা শুনি যা পর্শ করি, এক কথায় পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের দ্বারা যা কিছু অনুভব করি তা সবেই আমাদের ব্রেনের  অবচেতন মনে জমা হতে থাকে ধীরে ধীরে। আর আমরা যে সকল কাজ গুলো ৭২ ঘন্টার মধ্যে বেশি পরিমাণে করে থাকি, সেই কাজ গুলো আমাদের ব্রেনে বেশি জমা হয়। আর সেই সকল কাজ গুলো মন থেকে করতে থাকি অথবা সেই সব কথা গুলো বলতে থাকি কিংবা সেই নিয়েই ভাবতে থাকি। আর এটাই হল আমাদের মন।



তাহলে মন হল, আমাদের চারপাশের পরিবেশ কে চোখ দ্বারা দেখি, কান দ্বারা শুনি, নাক দ্বারা গন্ধ অনুভব করি, হাত দ্বারা পর্শ করি এই সমস্ত অনুভূতি গুলো গিয়ে আমাদের ব্রেনে জমা হয়। তারপর ব্রেন এগুলো আমাদের মুখ দ্বারা অথবা কাজের দ্বারা বাইরে প্রকাশ করার পদ্ধতি কে বলা হয় মনের প্রকাশ।

উদাহরণ: 

ধরুন আপনি পাঁচ বছর বয়স থেকে জঙ্গলে আছেন, আজ আপনার বয়স ধরলাম ২৫ বছর। তাহলে আপনার এই জঙ্গলের ২৫ বছর বয়সের সাথে আজকে এই বর্তমান ২৫ বছরে কি কি পরিবর্তন আসতে পারে একবার ভেবে দেখুন।



প্রথমতঃ আপনি কথা বলতে পারবেন না।
দ্বিতীয়তঃ লজ্বা জিনিস কি সেটা জানবেন না।
তৃতীয়: আপনি কাঁচা খাবার খেতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।
চতুর্থ: আপনার মনের গঠন পুরোপুরি তৈরি হবে জঙ্গলের পরিবেশের মতো।
পঙ্চম: যেহেতু আপনি মানুষের সন্তান সেহেতু জিনগত বৈশিষ্ট্য আপনার মধ্যে থাকবে।
রাগ প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যাবে, প্রতি নিয়ত যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হবে।
মোট কথা মন তৈরি হয় আমাদের পরিবেশের মধ্যে দিয়ে। তাই বিভিন্ন দেশের মানুষদের বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। আফ্রিকার মানুষের মনের সাথে আমাদের মনের অনেক পার্থক্য দেখা যাবে।

আবার একটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সবাই এক হয় না অনেক সময়। তার মূল কারণ হলো সেই ব্যক্তিটি পরিবারের সদস্যদের থেকে বাইরের মানুষের সাথে বেশি মেলামেশা করে এবং তাদের কথা বেশি শুনে চলে।
এছাড়াও প্রতিটি মানুষের মনের ভাব প্রকাশ, ভালো লাগা, খারাপ লাগা, রাগ, ইত্যাদি এক হয় না। তার কারণ, তার জগৎ আলাদা। সে আলাদা কিছু নিয়ে ভাবতে চায়.........



মন কি ভাবে কাজ করে?

জন্ম হওয়ার পর থেকে একটি শিশুর মন বলে কিছু থাকে না। এই মন তৈরি হয় খুব ধীরে ধীরে। তারপর শিশুটির অবচেতনে জমা হতে থাকে। সে যত বড় হবে তার বুদ্ধি তত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। এখানে আপনি এই শিশুটিকে যে ভাবে, যে পরিবেশে বড় করবেন । সেই ভাবে সে তার চিন্তা ভাবনা গুলোকে সে ভাবে কাজে লাগবে।
যদি আপনি আপনার শিশুটিকে বস্তির ছেলেমেয়েদের সাথে মেলামেশা করতে দেন, তাহলে কিছু দিন পর শুনবেন তার মুখ থেকে খারাপ কিছু বার হচ্ছে.......
সেটা খারাপ ভাষাও হতে পারে অথবা ধোঁয়াও হতে পারে।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা বেশিরভাগ কাজই করে থাকি মন থেকে বা অবচেতন মন থেকে।
যেমন, সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে ব্রাশ দিয়ে দাঁত  পরিষ্কার করি। এটি আমাদের মনে করে করতে হয় না এমনি এটা একটা প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। মানে, অবচেতন মন থেকেই করে ফেলি। আবার স্নান করা, খাবার খাওয়া, ঘুমোতে যাওয়া ইত্যাদি। কিন্তু এগুলোর বাইরে যখনি নতুন কাজ করতে হয় তখনি আমাদের মন সেটা সহজে মেনে নিতে পারে না। এখানে মূল বিষয় হলো, অভ্যাস। আপনি যখনি একটি কাজকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারবেন তখনি সেই কাজটি আপনার কাছে সহজ হয়ে উঠবে। যেমন, আগে বলেছি ব্রাশ করা, খাবার খাওয়া, ঘুমোতে যাওয়া ইত্যাদি।
এবার বলি, আপনি যদি বেশিরভাগ সময় রোমান্টিক মুভি, রোমান্টিক গান, রোমান্টিক উপন্যাস, রোমান্টিক কবিতা, কাহিনী নিয়ে বেশি সময় দেন তাহলে আপনার অবচেতন মন এটাই বিশ্বাস করতে শুরু করবে যে আপনি একজন রোমান্টিক মানুষ। এরপর যেখানে যাই কিছু আলোচনা হোক না কেন আপনার মন সেই আলোচনার মধ্যে রোমান্টিক কিছু খোঁজার চেষ্টা করবে। যদি রোমান্টিক কিছু কথা বা আলোচনা হয় তাহলে আপনার মন সেখানে অংশ গ্ৰহন করার জন্য আকুল হয়ে উঠবে। আর যদি রোমান্টিক কিছু আলোচনা না হয় তাহলে আপনার মন সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তাগাদা দিতে থাকবে।


এটা আমি রোমান্টিক ব্যক্তির মন দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলাম।
এর রকম আরো অনেক ধরনের মানুষ আছে যারা বাগান ভালোবাসে, কেউ পশুপাখি ভালোবাসে, কেউ টাকা উপার্জন করতে ভালোবাসে, কেউ নিজের নাম উজ্জ্বল করতে ভালোবাসে, কেউ চুরি করতে ভালোবাসে, কেউ অন্যায় কাজ করে মনে সুখ পায়, কেউ নিজের পরিবারের কল্যাণ করার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত থাকে, কেউ অভিনয় করে বিখ্যাত হতে চাই, কেউ কিছু আবিস্কার করে বিখ্যাত হতে চায় ইত্যাদি ইত্যাদি।
আর এই সব ব্যক্তিদের মন আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করে, এদের মনের সাথে বাকি ব্যক্তিদের মনের অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
এবার আপনি ভাল করে ভেবে দেখুন কি কি কারনের জন্য আপনার মন এমন হয়েছে।

সচেতন মন কি?

সচেতন মন হলো আমরা যে কাজটি বিবেক বুদ্ধি দিয়ে বিচার করে, করে থাকি সেটা হলো সচেতন মনের কাজ বা সচেতন মন।
যেমন, আপনি অনেক বার অনুভব করেছেন যে, একটি খারাপ কাজ করার আগে আমাদের মনে প্রথমে দুটি কথা মনে আসে। এক, এই কাজটি করা কি ভালো হবে? আর দুই নম্বর হলো, না এটা আমার করা উচিৎ নয়?
এই ভাবে আপনি যখনি কোন খারাপ কাজ করতে যাবেন তখনি আপনার মন একবার হলেও আপনাকে বাধা দিবে। আর এটাকে যদি সত্যিই আপনার খারাপ কাজ বলে বিচার বুদ্ধি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারেন তাহলে আপনি সচেতন মনের অধিকারী একজন ভালো ব্যক্তি।
কিন্তু আসল কথা হলো এটি সবাই পারে না, সে তার মনের কথা শুনে কাজটি করতে থাকে। কারণ, মনের কথা শুনে কাজ করলে মনে শান্তি পাওয়া যায়। আর বুদ্ধি, বিবেক, ব্যাখ্যা , বিজ্ঞান দিয়ে কাজ করলে মস্তিষ্কে এক ধরনের চাপের সৃষ্টি হয়।
আর এটি সবাই মেনে নিতে পারে না।

অবচেতন মন কি?

অবচেতন মন হলো, আমরা যে সকল কাজ, কথা, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, ভালোলাগা, নেশা, অভ্যাস ইত্যাদি বিষয় গুলো নিয়ে চিন্তা ভাবনা না করেই করে থাকি, না ভেবেই বলে থাকি বা অজ্ঞানের মতো যে কাজ গুলো করে থাকি সেটাই হলো অবচেতন মন।
আর এটাকেই আমরা মন বলে থাকি।
মনে যখন যা আসে বলে ফেলি, মন যা করতে চায় করে থাকি এই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সব কিছুই কন্ট্রোল করে আমাদের এই অবচেতন মন।

অবচেতন মনের বৈশিষ্ট্য গুলো হলো:

এই মন জানে না যে কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। এই মনকে আপনি যা করতে বলবেন সে কিন্তু সেটাই সঠিক বলে বিশ্বাস করে নিবে।
অবচেতন মন চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করতে থাকে।
অবচেতন মনের প্রচুর ক্ষমতা থাকে।
এই মন আপনাকে অনেক ভালো ভালো আইডিয়া পেতে সাহায্য করে।
মোট কথা আপনি যে বিষয় টি নিয়ে বেশি চিন্তা ভাবনা করবেন সেই বিষয় নিয়ে অবচেতন মন আপনাকে সাহায্য করবে।
মানে, আপনি যদি ভালো কিছু করার জন্য অথবা ভালো কিছু পাওয়ার জন্য বার বার ভাবতে থাকেন তাহলে অবচেতন মন আপনাকে ভালো রাস্তা দেখতে সাহায্য করবে।
আর আপনি যদি খারাপ কিছু বার বার ভাবতে থাকেন তাহলে আপনার মাথায় শুধু খারাপ আইডিয়া আসতে থাকবে।


সত্যিই কি মন বলে কিছু আছে নাকি সবটাই মস্তিষ্কের কেরামতি?

আবার একবার যাচাই করে নেওয়া যাক, আমাদের ইন্দ্রিয় হলো মোট ছয়টি ব্রেন সমেত। পাঁচটি ইন্দ্রিয় কে কন্ট্রোল করে আমাদের ব্রেন। সমস্ত ডেটা ব্রেনে জমা হতে থাকে আমাদের জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত।
পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের কাজ হলো আমাদের চারপাশের সবকিছুকে কপি করে ব্রেনে পৌঁছে দেওয়া। এরপর ব্রেনের কাজ হলো যে তথ্য টি বেশি মাত্রায় তার কাছে জমা হয়েছে সেটাকে নিয়ে ভাবতে থাকা, সেটাকে আরো বেশি ভালো করে যাচাই করা, এবং বাকি সব ডেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে সেটাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
ব্রেন মানে আপনার মস্তিষ্কে বার বার একই প্রক্রিয়া চলার ফলে ( অবচেতন মনে) আপনার মনে কিছু করার বা বলার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। আর এটি যখন আমাদের মুখ, অথবা কাজের দ্বারা প্রকাশ পায় তখন এটাকে আমরা মন বলে থাকি অথবা অনুরোধ পালন করার চেষ্টা করি।
মনের অজান্তেই যে সকল কাজ করি সবেই অবচেতন মনের প্রতিফলন বা মনের আর একটি রুপ।
সচেতন মন হলো যুক্তিবাদী মন। এই মনকে আপনি যতো বেশি ব্যবহার করতে পারবেন আপনার চিন্তা ভাবনা গুলো তত পরিস্কার আর উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। কারণ, এটিও এক সময় অবচেতন মনে জায়গা খুঁজে নিবে, আর একবার অবচেতন মনে জায়গা করতে পারলে আপনার বুদ্ধি এখন যা আছে তার তিন গুণ বুদ্ধি বেড়ে যাবে।

এবার কি বুঝলেন সত্যিই কি মন বলে কিছু আছে নাকি সবটাই মস্তিষ্কের কেরামতি ..........





Post a Comment

Previous Post Next Post